শাজাহান আহমেদ আসিফ
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি
জামায়াত প্রার্থী আমজাদ হোসেনের
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী–২ (পলাশ) আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
শনিবার রাতে ডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শিমুলতলা গেট এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নরসিংদী দুই পলাশ আসনের মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা আমজাদ হোসেনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ এটিকে ‘অশালীন ও কাপুরুষোচিত কাজ’ বলে আখ্যা করেন।
এলাকাবাসীরা জানান, রাতের অন্ধকারে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রচার সামগ্রী নষ্ট করা সুস্থ রাজনীতির পথে বড় বাধা। যারা ব্যানার ছিঁড়ছে তারা জনসমর্থন হারানোর ভয়ে এমন কাজ করছে। পলাশের মানুষ শান্তিপ্রিয়; এখানে এমন নোংরা রাজনীতি বরদাশত করা হবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের প্রতি তারা আহ্বান জানান—এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন তাঁর আশপাশের কেউ না করে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর মাওলানা আমজাদ হোসেন বলেন। ব্যানার ছিঁড়ে তার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। পোস্টার বা ফেস্টুন ছিঁড়ে কারও জনপ্রিয়তা কমানো যায় না। বরং যারা রাতের আঁধারে এ ধরনের কাজ করছে, তারা নিজেদের দুর্বলতাই প্রকাশ করছে ।
তিনি আরো বলেন, আমরা নীতি, আদর্শ ও সত্যের পক্ষে কাজ করি। আমাদের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার কোনো স্থান নেই। যারা আমাদের ব্যানার ছিঁড়েছে, তাদের জন্যও আমি দোয়া করি—তারা যেন বুঝতে পারে ঘৃণার রাজনীতি কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না।
ড. আব্দুল মঈন খানের উদ্দেশে তিনি বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আপনি দেশের একজন সম্মানিত ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। আপনি বহুবার এমপি-মন্ত্রী ছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি চান পলাশের পরবর্তী নেতৃত্ব একজন যোগ্য ও নীতিবান মানুষের হাতে উঠুক। তাই আপনার আশেপাশে কেউ যদি প্রতিপক্ষের প্রচার সামগ্রী নষ্ট করে থাকে, তাদের দয়া করে কঠোরভাবে নিষেধ করুন। এ ধরনের আচরণ আপনার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও মর্যাদার সঙ্গে যায় না, শালীন রাজনৈতিক চর্চা গরতে পারে সুন্দর পলাশ।
নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, “সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ—ব্যালটের মাধ্যমে। যারা নোংরা রাজনীতি করে, জনগণ তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে। “বিএনপির ভাইয়েরা আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র। আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমরা শান্তি চাই, উত্তেজনা নয়।”
এলাকাবাসীও আশা প্রকাশ করেছেন—আসন্ন নির্বাচনে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না এবং পলাশে রাজনৈতিক স্থিতি বজায় থাকবে।