মানিকগঞ্জ পৌরসভা ২নং ওয়ার্ডের ভাই ভাই বাজার ঠাটাঙ্গা এলাকায় চলাচলের দুই ফিট রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ পুনরায় উত্তপ্ত রূপ ধারণ করেছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টার দিকে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এ সময় আজম আলীর স্ত্রী মাজেদা আক্তার নাকে আঘাত পেয়ে আহত হন। এছাড়া ধাক্কাধাক্কিতে আরও দুইজন আহত হন বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিউদ্দিন মাস্টারের ছেলে এনবিআর ফারুক হোসেন তার স্কুল নির্মাণের সময় চলাচলের সুবিধার্থে পাশেই দুই ফিট রাস্তা ফাঁকা রাখেন। একইভাবে আজম আলী ও দুই ফিট রাখবে শর্তে কথা ছিল, পৌরসভায় দরখাস্ত দিয়ে ওই স্থানে দুই ফিট রাস্তা রাখবেন বলে জানান। পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিমের হস্তক্ষেপে বিষয়টি আপোষে মীমাংসার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
কিন্তু সম্প্রতি আজম আলী গং রাস্তা না রাখার সিদ্ধান্তে অনড় হয়ে পড়েন। এলাকাবাসীরা বিষয়টি কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম কোইনটাকে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ফিট রাস্তা রাখার পরামর্শ দেন। তবে আজম আলী এতে রাজি না হয়ে প্রকাশ্যে রাস্তা না দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে সাবেক কাউন্সিলর এডভোকেট মেজবাউল হক মেজবাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে একই পরামর্শ দিলে তাকেও অস্বীকৃতি জানান আজম আলী।
ঘটনার জেরে হারুন ও রশিদ সহ এলাকাবাসী পৌরসভায় অভিযোগ দায়ের করেন। পৌরসভা আগামী ২ ডিসেম্বর বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত বৈঠকের আগেই ১ ডিসেম্বর আজম আলী গং নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং এনবিআর ফারুকের রেখে দেওয়া দুই ফিট রাস্তা বাদ দিয়ে পুরোটাই ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন।
এ সময় কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম কোইনটা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। তিনি আজম আলীকে উদ্দেশ্য করে জানান—“যদি রাস্তা না দেন, তবে ফারুক ভাই যে দুই ফিট জায়গা রেখেছিলেন সেটি এখন খালি করে ফিরিয়ে দিতে হবে।” এ কথাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আজম আলীর স্ত্রী মাজেদা আক্তার নাকে আঘাত পেয়ে আহত হন।
স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বর্তমানে বিষয়টি পৌরসভায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।