রেজাউল করিম, শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র নদীর চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে তিল চাষের পরিমাণ, বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহও। উপযুক্ত আবহাওয়া ও অনাবাদি জমিতে কম খরচে বেশি ফলনের কারণে তিল চাষে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বহু বছর ধরে অবহেলিত থাকা এই তৈলজাত ফসল এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসলে পরিণত হচ্ছে।
বেলে ও বেলে-দোআশ মাটির অনুর্বর জমিতে তিল চাষে শ্রম ও খরচ—উভয়ই কম লাগে। তাছাড়া বাজারে তিলের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা তিল আবাদে বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। এ কারণে চরাঞ্চল ও নদ-নদীর তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর কৃষকেরা এবার তিল চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর, চন্দ্রকোণা, পাঠাকাটা, টালকী, বানেশ্বরদী ও উরফা ইউনিয়নের কৃষকদের মতে, পতিত জমি, খাল-বিল ও বাড়ির আঙিনাসহ নদীর তীরবর্তী জমিতে তিল চাষ খুব সহজ। কৃষক তারা মিয়া, এরশাদ আলী ও কামরুল ইসলাম জানান—ব্যয় কম আর লাভ বেশি হওয়ায় তিল চাষে কৃষকেরা ঝুঁকছেন। তাদের ধারণা, আমদানিকৃত তিলের ওপর নির্ভরতা এবার কিছুটা কমে আসবে।
ভূরদী খন্দকারপাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ্ব ছাইদুল হক, কৃষক মুক্তার হোসেন ও মোখলেছুর রহমান বলেন, তিল চাষে খরচ খুব কম, অথচ লাভ হয় ৫ থেকে ৬ গুণ। কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা নিয়মিত তিলের আবাদ বাড়াচ্ছেন। তাদের ধারণা, মাঠের যে অবস্থা—তা দেখে ধারণা করা যায়, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মুরসালিন মেহেদী জানান, দেশে উৎপাদিত তৈলজাতীয় ফসলের মধ্যে তিল গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল। কম উর্বর জমিতেও তিল ভালো ফলন দেয় এবং খরচও তুলনামূলক কম। তাই কৃষকরা তিল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নকলা উপজেলায় প্রায় ১৪–১৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দেড়গুণ বেশি। উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হেক্টর জমিতে ১২.৭৮ মেট্রিক টন উৎপাদন। দুই মাস আগে তিলের আবাদ শুরু হয়, এবং ক্ষুদ্র–প্রান্তিক চাষিদের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে।
তিলের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকরা আশাবাদী। আগামী বছর চাষের জমি ও চাষির সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও তাদের ধারণা।
এ জাতীয় আরো খবর..