(বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ অলিউদ্দিন মিলন)
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের জন্য একটি ইবাদতবান্ধব ও ধর্মীয় গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। আজ রবিবার দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে বায়তুল মোকাররমের সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করার উদ্দেশ্যে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সরকারি বিধি-বিধান
ধর্ম উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে সরকারি কাজের প্রক্রিয়া তুলে ধরে বলেন, যেকোনো সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। তিনি আরও জানান:
সরকারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হয়।
ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু কাজ চলমান রয়েছে।
অতি দ্রুত আরও কিছু নতুন সংস্কার কাজে হাত দেওয়া হবে।
অবকাঠামোগত সংস্কার ও আধুনিকায়ন
দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সাধিত হওয়া উল্লেখযোগ্য সংস্কারগুলোর বিবরণ তুলে ধরেন ড. খালিদ হোসেন:
ক্ষেত্র সম্পন্ন কাজসমূহ
বিদ্যুৎ ও অগ্নি নিরাপত্তা ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর স্থাপন। অগ্নি নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ৮০টি ফায়ার হাইড্রেন্ট সংযোজন।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যান মসজিদের ভেতরের ৪০টি এবং নারীদের নামাজ কক্ষের সব কটি এসি সার্ভিসিং করে সচল করা হয়েছে। গত এক বছরে ১২০টি নতুন সিলিং ফ্যান এবং ৩য় ও ৪র্থ তলায় ১০টি পেডেস্টাল ফ্যান সংযোজন।
কার্পেট ও সাউন্ড সিস্টেম ৪৯ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে মসজিদে ১২ হাজার স্কয়ার ফুট উন্নতমানের কার্পেট বিছানো হয়েছে। মিনারেও নতুন জায়নামাজ ও কার্পেট এবং আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে।
পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন পানির সংকট নিরসনে সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন। নতুন ড্রেন নির্মাণ ও পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও মুসল্লিদের সুবিধা বৃদ্ধি
মসজিদের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান:
ওজুখানা ও টয়লেট পরিষ্কারের জন্য একটি বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির সাথে চুক্তি করা হয়েছে, যেখানে ১২ জন কর্মী নিয়োজিত।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে আধুনিক ও টেকসই ডিজাইনে পূর্বদিকে ৩০টি নতুন টয়লেট ও ওজুখানা নির্মাণ করা হয়েছে।
দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের ক্ষতিগ্রস্ত ৪টি গেট মেরামত করা হয়েছে।
জুতা রাখার জন্য ওভারহেড বক্স সরবরাহ করা হয়েছে।
আয় বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সাফল্য
মসজিদ ও মার্কেটের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এনে যে আর্থিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা তুলে ধরেন ধর্ম উপদেষ্টা:
বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট থেকে বকেয়া বাবদ দুই কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।
অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে দুটি দোকান উদ্ধার করা হয়েছে।
মার্কেটের দুটি কার পার্কিং ইজারা দিয়ে ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
গত এক বছরে মসজিদ ও মার্কেটের মূলধন ৯০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১১০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের আধুনিকায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অতি দ্রুত শুরু হবে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন:
ধর্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন
অতিরিক্ত সচিব মো. ইমতিয়াজ হোসেন
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান
ওয়াকফ প্রশাসক নূর আলম
মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ
এ জাতীয় আরো খবর..