ডেস্ক নিউজ
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক প্রায় সব দল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে দফায় দফায় দাবি তোলা হচ্ছে। তবে দেশটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সহসা প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
নয়াদিল্লির ক্ষমতাকাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির ‘অবস্থান’ বিবেচনায় নিয়ে এমনটা মনে করছেন ঢাকায় সরকার ও সরকারের বাইরের বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত করে শেখ হাসিনার মৃত্যুদ- হওয়ার পর থেকে ভারত চাপে আছে। তাকে বাংলাদেশ ফেরত চায়। এমন পরিস্থিতিতে তাকে কেন্দ্র করে চার ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ আছে। প্রথমত, তিনি নিজ সিদ্ধান্তে দেশে ফিরে আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করবেন কি না? দ্বিতীয়ত, ভারত তাকে বাংলাদেশ কর্র্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবে কি না? তৃতীয়ত, অন্য কোনো দেশে চলে যাওয়ার জন্য ভারত সরকার তাকে চাপ দেবে কি না? চতুর্থত, তিনি এখন যেভাবে ভারত সরকারের আশ্রয়ে আছেন, সেভাবেই তাকে সেখানে অনির্দিষ্টকাল থাকতে দিয়ে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের দিক থেকে আসা চাপ ক্রমান্বয়ে সইয়ে নেওয়া। শেখ হাসিনা নিজেই ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে তার ক্ষেত্রে ভারত সরকার চতুর্থ পথটি বেছে নিতে পারেন এমনটা মনে করছেন ঢাকার কূটনীতিকরা।
হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের দিক থেকে প্রকাশ্যে আসা সর্বশেষ বক্তব্যের কী ব্যাখ্যা এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ভারত এখন চাপে আছে। কিন্তু তিনি (হাসিনার) নিজে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা মেনে নেওয়া ছাড়া ভারত সরকারের জন্য দৃশ্যত অন্য পথ খোলা নেই। তিনি বাংলাদেশে ফেরত এলে, কিংবা তৃতীয় কোনো দেশে চলে গেলে ভারত বেঁচে যায়।’ গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট সাবেক এই রাষ্ট্রদূত গতকাল রবিবার এ কথা বলেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে গত শনিবার দিল্লিতে গণমাধ্যম এনডিটিভি প্রশ্ন করে, শেখ হাসিনার যতদিন চান ততদিনই ভারতে থাকতে পারবেন কি না? জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘তিনি (হাসিনার) একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে এখানে এসেছিলেন। আমি মনে করি, সেই পরিস্থিতির স্পষ্ট প্রভাব এ ঘটনার (তার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার) ওপর ছিল। আবার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা তার নিজেকেই নিতে হবে।’
ণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেওয়া হয়, এমন একটি বাংলোতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। গণঅভ্যুত্থান দমনে হত্যাকান্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনে যুক্ত থাকার দায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গত নভেম্বরে তাকে ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদন্ড দেয়।