জাহিদ হাসান টিপু
শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুর জেলা সদরের ধানুকা থেকে মনোহর মোড় যাওয়ার পথে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক যুবতীকে বনবিভাগ এলাকায় গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর পুরো ঘটনায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রথমে ধর্ষণের অভিযোগ করলেও পরে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করে তা অস্বীকার করেছেন ভিকটিম সাদিয়া জাহান পুষ্পা। তার অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্যে বিভ্রান্ত হয়েছে প্রশাসন, সাংবাদিক ও স্থানীয়রা।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবতী ও সঙ্গে থাকা বন্ধু সজিব গাজীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “ভিকটিম একেক সময় একেক কথা বলছেন। কখনো ধর্ষণের কথা বলছেন, কখনো শারীরিক নির্যাতনের কথা বলছেন। মেডিকেল রিপোর্ট ও তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র সজিব গাজী মঙ্গলবার পরীক্ষা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বান্ধবী সাদিয়া জাহান পুষ্পাকে নিয়ে ইজিবাইকে মনোহর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বনবিভাগের কাছে পৌঁছালে ৬–৭ জন অজ্ঞাত যুবক ইজিবাইকের গতিরোধ করে দুজনকে জোরপূর্বক বনের ভেতরে নিয়ে যায়।
সজিব অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় এবং বান্ধবীকে ঝোপের দিকে টেনে নিয়ে যায়। তারা প্রথমে ১ লাখ টাকা, পরে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার কাছে থাকা ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার পর সাদিয়াকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাস্থলটি পুলিশ সুপারের বাসভবন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে।
প্রত্যক্ষদর্শী শাহাবুদ্দিন বলেন, “মেয়েটি আমার পা ধরে সাহায্য চায়। সে জানায়, কয়েকজন মিলে তাকে নির্যাতনের চেষ্টা করেছে।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ রাব্বি জানান, “মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং পুলিশকে খবর দিই।”
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. খন্দকার রাশেদ আহমেদ রিফাত বলেন, “ভিকটিম ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে ভর্তি হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার পরেই আসল অবস্থা জানা যাবে।”