খন্দকার মোহাম্মদ আলী , সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ গৌরী আরবান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমানীত হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন কালে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাংক হিসেবে সংঘটিত লেনদেন পুরো স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। আর্থিক বিষয়ে সুষ্ঠ ভাবে নিরীক্ষা করার জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে বলে তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে।
গৌরী আরবান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফডিআরের প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, স্কুলের অন্যান্য টাকা ‘নয়-ছয়’ সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগ এনে চলতি বছরের ২০ জুলাই স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এডহক কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। লিখিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ম্যানেজিং কমিটি প্রাথমিকভাবে প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করেন।
এর পর এডহক কমিটির সভাপতি ও সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটির আহবায়ক সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও কল্যান শাখা) মো. মহসিন খন্দকার। দুই সদস্য হলেন ভিক্টোরিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম ও গৌরী আরবান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য রফিকুল ইসলাম। এই তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে গত ১১ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তদন্ত কমিটির সদস্য সাজেদুল ইসলাম।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংক এর হিসাব বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম দুটি একাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময় ১০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ শত টাকা উত্তোলন করার বিষয়টি মৌখিকভাবে স্বীকার করেন। স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, পরবর্তী সময়ে সভাপতি পরিবর্তন হলেও শুধুমাত্র বেতনের হিসাব ব্যতীত অন্য হিসাবগুলোতে হিসাব পরিচালনাকারীর স্বাক্ষর পরিবর্তন করেননি এবং সভাপতি পরিবর্তনের পরও পূর্বের সভাপতির সাথে যৌথ স্বাক্ষর টাকা উত্তোলন করেন। অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া উত্তোলিত অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে সে বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তদন্ত কমিটিতে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারিগণ যে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ এনেছে তা আদৌ সত্য নয় এবং আমি এ ধরনের আর্থিক অনিয়মের সাথে কোন ক্রমেই জড়িত নই।
এ জাতীয় আরো খবর..