মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা পৌরসভার নিষেধাজ্ঞা ও কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করে চলেছেন প্রভাষক শরিফুল ইসলাম—এমন গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় এলাকায়। পৌর আইন, ভবন নির্মাণ বিধিমালা ও প্রতিবেশী অধিকারের তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন অবৈধ নির্মাণ চালিয়ে যাওয়াকে আইনের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর ১নং ওয়ার্ডের কাস্টম গোডাউনে পশ্চিম পার্শ্ববর্তী শরিফুল ইসলাম এর ভবন নির্মাণকাজ চলাকালে পাশের বাসিন্দা ফাতেমা খাতুন (৫৫) স্বামী মৃত আবিদ হোসেন এর বৈধ জমির সীমানার ভেতরে জোরপূর্বক দেয়াল ও সেটব্যাক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে একদিকে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে তার বসতঘর মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নির্মাণস্থল থেকে নির্বিচারে পানি ফেলে ফাতেমা খাতুনের ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে জানালা, সোফা ও আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ আরও ভয়াবহ—একাকী বসবাসকারী একজন বিধবা ভদ্র মহিলার অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যেভাবে চাপ সৃষ্টি করতো, সেই সংস্কৃতি আজও বহাল রেখেছে শরিফুল ইসলাম।
এ বিষয়ে পৌরসভার একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ চালানো মানে পৌর আইনকে পায়ের নিচে ফেলা।”
আরেক কর্মকর্তা আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “সেটব্যাক ও সীমানা লঙ্ঘন করে নির্মাণ মানেই অবৈধ দখল। এখানে প্রভাষক হোক বা প্রভাবশালী—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকে পৌরসভার অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—একাধিকবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর ভাষায়, “আইন থাকলে প্রয়োগ কোথায়? অবৈধ নির্মাণ চলতে থাকলে পৌরসভার নির্দেশনার মূল্য কী?”
ভুক্তভোগীরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ নির্মাণ বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সুরক্ষা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।