×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১২-১৪
  • ১৩১ বার পঠিত
ব্যুরোঃ

ফেনীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গত তিন মাস ধরে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ টিকা (অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন বা এআরডি এবং র‍্যাবিস ইমিউনোগে¬াবুলিন বা আরআইজি) নেই। জেলার ছয়টি উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটে আসলেও রোগীদের টিকার অভাবে ফিরে যেতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে চড়া দামে টিকা কিনছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টিকার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগে চাহিদাপত্র পাঠালেও কবে নাগাদ এ সংকট কাটবে এ তথ্য জানা নেই সংশি¬ষ্টদের।

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, জেলার ছয়টি উপজেলা ফেনী সদর, দাগনভূঞা, সোনাগাজী, ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন জলাতঙ্ক প্রতিরোধ টিকার জন্য এ হাসপাতালে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত সেপ্টেম্বর মাসে সর্বশেষ রোগীদের জন্য ৫০০ টিকা পায়। এরপর টিকার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। শুধু নভেম্বর মাসে ৬৫৩ টিকা কিনে ২ হাজার ৬১২ ব্যক্তি শরীরে পুশ করা হয়েছে। কিন্তু টিকা না থাকায় রোগীরা জীবনমরণ সংকটে পড়ছে। জলাতঙ্ক একটি মারাত্নক রোগ, যা টিকা ছাড়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সময়মতো টিকা না নেওয়া হলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত।

জলাতঙ্ক বিশেষজ্ঞরা জানান, জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর, বিড়াল বা অন্য প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত এআরভি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে আরআইজি টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে প্রতি বছর জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক মানুষ মারা যান, যার বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী। টিকার সহজলভ্য ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ মৃত্যুহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

সম্প্রতি কুকুরের কামড়ে আহত চার বছরের ছেলেকে নিয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে যান সদর উপজেলার বাসিন্দা আমেনা আক্তার। তিনি জানান কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর জানতে পারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। পরে ফার্মেসি থেকে টিকা কিনে ছেলের চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

বিড়ালের কামড় আহত দাগনভূঞার বাসিন্দা নুর করিম আজিম বলেন, আমাকে বিড়াল কামড় দিয়েছে। ক্ষতস্থান দিয়ে রক্ত পড়ায় আমি জলাতঙ্কের টিকার নিতে এসেছি। এখানে এসে শুনি টিকা নাই। পরে বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে কিনে এনে পুশ করেছি।

রোগীর জানান, হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় বাইরে থেকে ৫৪০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায় ভ্যাকসিন কিনে এনে পুশ করছেন তারা। এতে খরচের সঙ্গে বেড়েছে ভোগান্তি।

ফেনী সদর হাসপাতালের টিকাদানকারী জাহিদ হোসেন বলেন, টিকার সরবরাহ না থাকায় জলাতঙ্ক রোগীদের দেওয়া যাচ্ছে না। তবে কেউ ফার্মেসি থেকে কিনে এনে দিলে তিনি তা পুশ করে দিচ্ছেন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহী উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। চাহিদাপত্র পাঠিয়েও ভ্যাকসিন মিলছে না। আশা করি শিগগির ভ্যাকসিন এসে পৌঁছাবে। আগে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ভ্যাকসিন সরবরাহ করলেও বর্তমানে ওনারা সরবরাহ না করায় সংকট দেখা দিয়েছে।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা স্থগিত থাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে টিকাগুলো ক্রয় বিলম্বিত হচ্ছে। বর্তমানে আমরা স্থানীয়ভাবে টিকা ক্রয় করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat