খন্দকার মোহাম্মাদ আলী,
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
বিজয় দিবসে ফিরিয়ে দাও গণতন্ত্রের মানবতা, জাগ্রত হও সংগ্রামী জনতা—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উন্নয়ন অনুসন্ধান ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবী ও সদস্যদের সমন্বয়ে ও দেশের খেটে খাওয়া মানুষ আজ বিজয় দিবসের স্মৃতি ধারণ করে নতুন একটি বিজয়ের সুফল পাওয়ার প্রত্যাশায় অধিক আগ্রহে গণতন্ত্রগামী পথের পথিক হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবার অপেক্ষায় আছে।
২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নেতৃত্ব দেওয়ার মানবিক নেতাদের প্রতি উদার আহ্বান—অতীতের সকল গ্লানি ভুলে দল-মত নির্বিশেষে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে এক নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করানো, যা বিশ্ব দরবারে মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রশংসনীয় ভূমিকা লাভ করবে। এই প্রত্যাশা যেন দেশের সকল নাগরিকের কাছে প্রাণের দাবি হয়ে ওঠে।
সময়ের ব্যবধানে জগতের কত মহান মানব চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন; ক্ষমতার অবসান ঘটিয়েছে প্রকৃতির এক মহাসত্তা। প্রকৃতির কোলে জন্ম নেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকাত মানুষ তার জ্ঞান ও বিবেকের সমন্বয়ে পৃথিবীকে সৌন্দর্যের এক মহারূপে প্রদর্শন করেছেন শত সহস্র বছর ধরে, যা সমষ্টিগতভাবে সকল প্রাণীকূলের জন্য মঙ্গলজনক।
সৃষ্টিকর্তার দয়া ও মেহেরবানিতে জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকাত মানুষ তার আধিপত্য ও ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে জগতের শৃঙ্খলা, সভ্যতা এবং শ্রেষ্ঠত্বের কর্মপন্থা দেখিয়েছেন সর্বত্র। পৃথিবীতে অন্য কোনো প্রাণীকুল এমন ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রদর্শন করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না হয়তো। এটা স্রষ্টার দেওয়া মানুষ নামের সত্তার মাঝে বিদ্যমান এক অদ্ভুত ক্ষমতা। স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা কখনো মিথ্যা হবে না।
তাই গর্ববোধ করার মতো এমন ক্ষমতা পেয়ে মানুষ যদি হিংস্র পশুপ্রাণীর মতো আচরণ করে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শ্রেষ্ঠত্বের দায়বদ্ধতা থেকে আরও শ্রেষ্ঠতর কর্মসৃজন ও প্রসার ঘটাতে হবে জগতব্যাপী, যার সুফল প্রত্যেক মাখলুকাত উপভোগ করবে। তবেই স্রষ্টার দেওয়া শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান বিকশিত হবে সমগ্র বিশ্বজাহানে—সূর্যের প্রস্ফুটিত আলোর মতো সমুজ্জ্বল প্রভায়, যা প্রতিফলিত হবে সকলের জন্য সমানভাবে।
একই সূত্রে দয়া, মায়া, স্নেহ, ভালোবাসা আর চিরবন্ধনের উদার মমতার স্পন্দনে হৃদয়ের গভীর প্রাঙ্গণে স্থান করে নেবে মানুষ। এমন চিন্তা, চেতনা, ভাবনা আর সৃজনশীল কর্মপন্থায় পৃথিবীতে আগমন করেছেন অসংখ্য মহামানব। প্রত্যেকেই নিজ প্রচেষ্টায় জ্ঞান বিকশিত করে জগতে দিয়েছেন নতুনত্বের মহাউপহার, যা আজও প্রকৃতির কোলে চিরউন্নত স্মৃতি হয়ে আছে।
এ সময়ের মহান মানুষদের মধ্যে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের শিকড়ে গাঁথা কিছু মানুষের স্মৃতি কোটি মানুষের হৃদয়কে জাগ্রত করেছে, মহিমান্বিত করেছে মানবসভ্যতাকে। তাদের ভোলা যায় না—এমন অসংখ্য ব্যক্তির স্মৃতি বয়ে আছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে।
ক্ষমতা পাওয়া এবং ক্ষমতা ছাড়ার সময়—এই দুটি আগমন ও প্রস্থানের মুহূর্তে যেন কালবৈশাখীর মতো ঝড় বয়ে গেছে এই দেশের মানুষের জীবনে। অসংখ্য ঘটনার ধ্বংসাবশেষে নিমজ্জিত হয়েছে জাতি। তবুও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের কোটি মানুষ শৃঙ্খল জীবনযাপন করতে পেরেছে।
একটি চাওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ৫২ বছর গণতন্ত্রের ধারক-বাহকেরা চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করেছে, কিন্তু বারবার শূন্য হাতে ফিরে গেছে প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে। কখনো নিজেদের অজান্তেই মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য দেশের কৃষক, ছাত্র, শ্রমিক জনতা অবরোধ করেছে রাস্তাঘাট, যানবাহন, নৌপথ, আকাশপথ, স্থলপথ—সবকিছু। গণতন্ত্রের চাওয়া-পাওয়া আদায়ের সেই চেষ্টায় প্রাণ দিয়েছে বহু মানুষ।
এটাই ক্ষমতার অপব্যবহার, যার প্রেক্ষিতে অনেক ক্ষমতাশালী নেতা জনগণের ভাষা বুঝতে না পেরে আন্দোলনের মুখে অসম্মানজনকভাবে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় তা লিপিবদ্ধ থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত।
কিন্তু এসবের মাঝে একজন মহামানব কি কখনো ভাবেন—তার সত্তার অবসানে লুকিয়ে থাকে তার কর্মের সম্মান অথবা অপমানের একরাশ বোঝা, যা মৃত্যুর পরও প্রজন্মকে বহন করতে হয়?
প্রত্যেক স্তরের নেতা—ছাত্রনেতা, ব্যবসায়ী নেতা, শ্রমিক নেতা, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক নেতা—নামধারী নেতাদের ব্যক্তিজীবনের জ্ঞান কতটুকু জনকল্যাণে কার্যকর, তা কর্মক্ষেত্রেই মূল্যায়িত হয়। এর মাঝে প্রশংসা, গর্ব ও অবমূল্যায়ন—সবই পরিলক্ষিত হয় জনমনে।
তবুও ক্ষমতার সিংহাসন যেন অজান্তেই ডাকে—এসো হে ক্ষমতাধারী, তোমার অপেক্ষায় প্রশান্তি, প্রসাদ আর সম্মানের ললাটে পুষ্পমাল্য প্রস্তুত। প্রকৃতি যেন নীরবতার স্তব্ধ উল্লাসে অত্যন্ত প্রহরীদের সঙ্গে আগামীর নতুন সৃষ্টিসুধাকে মহাউৎসবে আলিঙ্গন করাবে অপেক্ষমাণ গণতন্ত্রের প্রহরীদের কাছে।
এ বিষয়ে উন্নয়ন অনুসন্ধান ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসন্ধানে দেশের সচেতন ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানা যায়—প্রত্যাশিত গণতন্ত্রগামী আঠারো কোটি মানুষ বিশ্বাস করে, ২০২৬ সালে পৃথিবীর মানচিত্রে দৃশ্যমান বাংলাদেশ এক নতুন রূপে গণতন্ত্রের পূর্ণতা পাবে। এই প্রত্যয় যেন বাস্তবে দৃশ্যমান হয় আজকের জীবিত মানুষদের কাছে।
কিন্তু এসবের তাৎপর্য বিশ্লেষণ এবং গণমানুষের মনের ভেতরে জমে থাকা ব্যথা ও না বলা কথাগুলো আজ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে লাল-সবুজের মানচিত্রে। ক্ষমতার অবসান হয় শুধু ক্ষমতার রূপ পরিবর্তনের জন্য—কল্যাণের জন্য নতুনত্বের ধারা সৃষ্টি হয় না সবসময়। এবারও হয়তো একই রূপে ক্ষমতার মহারূপ দৃশ্যায়িত হবে এ দেশের গণতন্ত্রে। অপেক্ষার অবসানে আবারও অপেক্ষা—হয়তো বর্তমানকে এভাবেই উপস্থাপন করতে হবে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে।
প্রকৃতির দেওয়া উপহার এই ভূখণ্ডে এক স্বর্গীয় অনুভূতি জাগায়। এর জন্য স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ এই ভূমিতে জন্ম নেওয়া মানুষগুলোও সৌভাগ্যবান। মানুষের নেতৃত্ব দেওয়া কাজটি কঠিন, তবুও সমগ্র পৃথিবীতে মানুষ একে অপরকে সহায়তা দিয়ে মানবতাবোধে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। কিন্তু যখন এই প্রয়োজনীয়তা ব্যক্তিস্বার্থে রূপ নেয়, তখনই জন্ম নেয় বিভেদ, আর উদ্দেশ্যহীন গন্তব্যের যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।
ধর্মনীতি ও রাজনীতিতে জগতের অধিকাংশ মানুষ সম্পৃক্ত, আর এ ব্যবস্থার ভেতরেই জন্ম নেয় ভয়ংকর বিরোধ। যুগে যুগে নীতির মাঝেই নীতিভ্রষ্ট ব্যক্তিরা অবস্থান নিয়ে নিজেদের ক্ষমতার প্রয়োগে ধর্মের মাঝেও সৃষ্টি করেছে বিশৃঙ্খলা। অনুরূপভাবে রাজনীতিতেও তৈরি করেছে নানা ফেতনা-ফ্যাসাদ।
এই অবুঝ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের পক্ষপাতমূলক তাবেদার মনোবৃত্তি দিন দিন কলুষিত করছে পুরো রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থাপনাকে। যে ব্যবস্থায় সমাজ সংস্কার হয়ে দেশের মানুষ শৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার কথা, সেখানে তারা বিশৃঙ্খলার রাজত্ব কায়েম করছে। এক শ্রেণির অসাধু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা নিজ স্বার্থ হাসিল করছে।
এদের সব অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংশোধন করে জনগণের প্রত্যাশিত গণতন্ত্রের ধারা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে জনগণকেই। গণতন্ত্র রক্ষায় এটাই হবে বিবেকসম্মত, ঈমানি দায়িত্ব।