ফেনী প্রতিনিধিঃ
ফেনী শহর আজও একটি ফুটওভার ব্রিজবিহীন জেলা সদর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন, অথচ দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি অবহেলিত। শহরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি এলাকা ট্রাংক রোড ও গুদাম কোয়ার্টার রেলগেইট এবং ফেনী সরকারী কলেজ গেইট শহরবাসীর মতে বহু বছর ধরেই দূর্ঘটনার ‘হটস্পট’, কিন্তু নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই।
ট্রাংক রোডে জেলা প্রশাসন, আদালতপাড়া, ব্যাংকপল্লী, ব্যবসাকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার কারণে সকাল-বিকেলে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। চলন্ত বাস-ট্রাকের ফাঁক গলে পথচারীদের পার হতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল হক মিলু বলেন, “ওইসব জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ না থাকা মানে মানুষকে প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া।”
গুদাম কোয়ার্টার রেল গেইটকে শহরবাসী সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন। বাজার, রাস্তাঘাট ও রেললাইন মিলিয়ে সংকট আরও তীব্র। রেলগেট খুললেই মানুষের ঢল নামে, বন্ধ হলে জমে যায় যানবাহনের সারি। সংবাদকর্মী সুরঞ্জিত নাগ অভিযোগ করে বলেন, “রেলগেইট খুললেই বিশৃঙ্খলা। এত বড় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় রেল লাইনের উপর দিয়ে চলাচল করতে প্রতিনিয়তই অকালে অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে ।”
মহিপাল মোড়েও প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচল হয়, কিন্তু নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই। কলেজ গেট এলাকায় প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন। মিজানরোডের পূর্ব মাথা এবং দাউদপুর মোড় বহুদিন ধরেই দূর্ঘটনাপ্রবণ। নারী, শিশু, শ্রমজীবী মানুষ সবাই একই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। পথচারী শাহ জালাল বলেন, “কোনো জায়গায় ট্রাফিকও থাকে না, ব্রিজও নেই। দূর্ঘটনা যেন নিয়তিই ধরে নেওয়া হয়েছে।”
শহর পরিকল্পনা নিয়ে যারা ভাবছে তারা বলছেন ফেনীর বর্তমান জনগুরুত্ব ও যানবাহনের চাপ বিবেচনায় কমপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে অবিলম্বে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ জরুরি।
সবচেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য স্থান- ট্রাংক রোডস্থ জিরোপয়েন্ট ও দোয়েল চত্বর, গুদাম কোয়ার্টারস্থ রেলগেইট, মহিপাল মোড়, ফেনী সরকারী কলেজ গেট, আলিয়া মাদ্রাসা, দাউদপুর মোড়। আরেক পথচারী জহির উদ্দিন বলেন, “উন্নয়ন মানে শুধু বিল্ডিং না- মানুষের জীবন বাঁচানো বড় উন্নয়ন। ফুটওভার ব্রিজ ছাড়া এই শহরে নিরাপত্তা বলে কিছু নেই।”
শহরবাসীর দাবি নির্বাচনের সময় এলে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এখনই ফেনীতে নিরাপদ পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হোক। ফেনীতে উন্নয়নের নামে বড়-বড় বাড়ি-ঘর, দালানকোঠা হলেও মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা আজও উপেক্ষিত এ অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।