বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ অলিউদ্দিন মিলন
দেশের অন্যতম প্রিমিয়াম ট্রেন আন্তঃনগর 'সোনার বাংলা এক্সপ্রেস' আজ রবিবার (২১ ডিসেম্বর) নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। সকাল ৭টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ে সকাল ৮টায়। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে এমন শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রী।
শুধু রেলপথই নয়; সড়ক, রেল ও আকাশপথ—সব মাধ্যমেই শিডিউল বিপর্যয় আর অব্যবস্থাপনা এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে আজকের চিত্র
সরেজমিনে কমলাপুর স্টেশনে দেখা যায়, ভোর থেকেই যাত্রীরা স্টেশনে ভিড় জমাতে থাকেন। সোনার বাংলা এক্সপ্রেস বিরতিহীন ট্রেন হওয়ায় যাত্রীদের প্রত্যাশা ছিল সঠিক সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার। কিন্তু সকাল ৭টা বাজার পরও ট্রেন ছাড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমান যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
চট্টগ্রামগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “জরুরি কাজে চট্টগ্রাম যাচ্ছি। বেশি টাকা দিয়ে সোনার বাংলার টিকিট কেটেছি যাতে সময়মতো পৌঁছাতে পারি। কিন্তু ৭টার ট্রেন ৮টায় ছাড়ল। এই ১ ঘণ্টা দেরির দায় কে নেবে? আমাদের সময়ের কি কোনো মূল্য নেই?”
স্টেশন সূত্রে জানা যায়, অপারেশনাল জটিলতার কারণে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছাতে দেরি করে, ফলে ছাড়তেও বিলম্ব হয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, শীতকালীন কুয়াশা এবং ইঞ্জিনের সীমাবদ্ধতার অজুহাতে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে।
সর্বত্রই অস্থিরতা: রেল, বাস ও বিমান
আজকের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের পরিবহন খাতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
রেলপথ: শুধু সোনার বাংলা নয়, উত্তরবঙ্গ ও অন্যান্য রুটের ট্রেনগুলোতেও ২ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বের খবর পাওয়া যাচ্ছে। শীতের শুরুতে কুয়াশার দোহাই দেওয়া হলেও যাত্রীদের অভিযোগ—ব্যবস্থাপনার অভাবেই এই বিপর্যয়।
সড়কপথ: বাসের যাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট এবং ধীরগতির কারণে ৩ ঘণ্টার রাস্তা পার হতে সময় লাগছে ৬-৭ ঘণ্টা। তার ওপর রয়েছে বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য। বিশেষ করে ছুটির দিন বা সপ্তাহের শুরুতে কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের জিম্মি করার অভিযোগ নিয়মিত।
আকাশপথ: অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটগুলোতেও শিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না। ঘন কুয়াশা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হচ্ছে। এতে বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছেন যাত্রীরা।
যাত্রীদের ক্ষোভ ও দাবি
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং জবাবদিহিতা না থাকায় প্রতিটি দপ্তরেই সেবার মান তলানিতে ঠেকেছে। ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়, প্রতিটি সেক্টরে (রেল, বাস, বিমান) সঠিক তদারকি নিশ্চিত করে শিডিউল বিপর্যয় রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
কমলাপুরে ক্ষুব্ধ এক যাত্রী বলেন, “আমরা টাকা দিয়ে সেবা কিনি, দয়া চাই না। রেলে দেরি, বাসে জ্যাম, প্লেনে ডিলে—যাব কোথায়? কর্তৃপক্ষের উচিত সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।”
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান, শিডিউল ঠিক রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
এ জাতীয় আরো খবর..