- প্রকাশিত : ২০২৫-১২-২১
- ১৭৬ বার পঠিত
ফেনী প্রতিনিধিঃ
ফুলগাজী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য প পূরণ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমানে। উপজেলায় মোট ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদ রয়েছে ২৬টি ও সহকারী শিক্ষকের শূণ্য পদ রয়েছে ২৯টি। সব মিলিয়ে মোট ৫৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য থাকায় ব্যিালয়গুলো কার্যত খুঁড়িয়ে চলছে।
ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। এতে করে শিক্ষকরা পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে চরম চাপের মুখে পড়ছেন।
মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩জন, যেখানে শূণ্য পদ রয়েছে দুইটি। দেবিপুর সরকারি প্রাথমিক ব্যিালয়ে ২২জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন তিনজন, এরমধ্যে শূণ্য পদ দুইটি। নিলক্ষী বালিকা সরকারি প্রাথমিক ব্যিালয়ে ৩২ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। নোয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন আটজন। বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন সাতজন। উত্তর ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন।
সবমিলিয়ে উপজেলার ৬৭টি বিদ্যালয়ে মোট ৬ হাজার ৮শত ৪৭জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩শ৬৯ জন। তথ্য চিত্রে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ স্কুলে শতকের নিচে ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমারে স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। তিনজন শিক্ষক দিয়ে একাধিক শ্রেণি পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর। প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পাঠদানে পুরো মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।”
একজন অভিভাবক জানান, “শিক্ষক না থাকায় বাচ্চারা ঠিকমতো পড়াশোনা শিখতে পারছে না। অনেক সময় স্কুলে গেলেও নিয়মিত ক্লাস হয় না। এতে ভবিষ্যতে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরে উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যিালয় বিমুখতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতনমহল।
এ বিষয়ে ফুলগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল কাশেম বলেন, বর্তমানে নূরানী মাদ্রাসার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী দিনদিন কমে যাচ্ছে। তিনি জানান “উপজেলার শিক্ষক শূণ্যপরে বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। নতুন নিয়োগ ও বদলির মাধ্যমে শূণ্যপ পূরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এই সংকট অনেকটাই কাটবে।”
শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নূরানী শিক্ষার পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে শূণ্যপে শিক্ষক নিয়োগ না হলে ফুলগাজীর প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
নিউজটি শেয়ার করুন
এ জাতীয় আরো খবর..