জাহিদ হাসান টিপু
শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের দায়ে একজন ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ওই অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার ও পাইপ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় প্রদান করা হয়। অভিযান চলাকালে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
অভিযানটি পরিচালনা করেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কে. এম. রাফসান রাব্বি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এম. রাফসান রাব্বি বলেন,
“সরকার নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো জায়গা থেকে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু ও পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে নদীগর্ভ গভীর হয়ে নদীভাঙন বেড়ে যায়। এসব অভিযান নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ ড্রেজিং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। নদীর তলদেশ থেকে পলি ও বালি তুলে নেওয়ায় নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হয়, গভীরতা পরিবর্তিত হয় এবং বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে নদীর পাড় ও তলদেশ অস্থিতিশীল হয়ে আশপাশের এলাকা ভাঙনের মুখে পড়ে।
এছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে এবং সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয় বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।