রেজাউল করিম, শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুর সীমান্ত জেলায় শীতের তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শীতের প্রকোপ বাড়লেও সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি উপজেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি গ্রামাঞ্চলে শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষি শ্রমিক ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো। অনেকেই শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না, ফলে তাদের মধ্যে চরম আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।
শীতের তীব্রতায় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পাশাপাশি গরম কাপড় ব্যবহারের এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক অসহায় মানুষ পুরনো কাপড় পরিধান করে কিংবা খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা একান্ত প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদার না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে গারো পাহাড়ের ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “দ্রুতই হতদরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এ জাতীয় আরো খবর..