×
সদ্য প্রাপ্ত:
ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু: মাহদী আমিন দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৯ কেজি স্বর্ণ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটর, খসড়া চুক্তি অনুমোদন সংরক্ষিত এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা মিরপুরের সংঘর্ষে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব আগামী দুই মাসে আসছে ১৯ কার্গো এলএনজি: পেট্রোবাংলা মিরপুরে হকার উচ্ছেদ ঘিরে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে আগুন
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-০৫
  • ১৭৩ বার পঠিত
জি এম ফিরোজ উদ্দিন , মনিরামপুর (যশোর)

ছন ও তালপাতা দিয়ে তৈরি শৌখিন হস্তশিল্পের বিভিন্ন নান্দনিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শত শত নারী আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন। প্রায় ২০টি গ্রামের ৩ থেকে ৫ হাজার নারী এখন নিয়মিতভাবে ছন ও তালপাতা দিয়ে ঝুড়ি, বাটি, ডালা, কড়াই, ফ্লোর ম্যাট, মাদুর ট্রেসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শৌখিন নানা ধরনের পণ্য তৈরি করছেন। এই নান্দনিক কর্মে খুলছে তাদের ভাগ্য। বাড়ছে রোজগার।
কোথাও বা বসেছেন এলোমেলোভাবে। অনেক জায়গায় গোল করে বসে একমনে কাজ করে যাচ্ছিলেন তারা। প্রত্যেকের হাতেই শোভা পাচ্ছিল তালপাতা, ছন আর সুঁই। এই তিনের মিলিত বন্ধনেই তৈরি করছিলেন রকমারি পণ্য। কোথাও আবার তৈরি পণ্যগুলো শুকানোর কাজ করছিলেন কেউ কেউ। হস্তশিল্পের এই কাজটি করে থাকেন নারীরা। এ ক্ষেত্রে পুরুষরা অনেকটা সহায়কের ভূমিকা পালন করেন। পারিবারিক কাজের পাশাপাশি এই কাজ করে তারা শুধু অভাব দূরই করছেন না, বরং হয়ে উঠছেন আত্মনির্ভরশীল নারী।
নারীদের নিপুণ হাতে তৈরি এসব ছন ও তালপাতার পণ্য এরই মধ্যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশে এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে, যার ফলে দেশে আসছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এতে নারীরা যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও যোগ হচ্ছে নতুন গতি। সরেজমিন বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নারীরা কেউ সারিবদ্ধভাবে বসে, আবার কেউ দলবদ্ধভাবে এই পণ্য তৈরি করছেন। এ সময় উপজেলার খানপুর গ্রামের কোহিনুর খাতুন, সালমা খাতুন, বাটবিলা গ্রামের জান্নাতি খাতুন, কুলসুম ও কাঁটাখালি গ্রামের তারা ভানু ও রেবা খাতুন জানান, পারিবারিক কাজের ফাঁকে সপ্তাহে ৮ থেকে ১০টি ডালা তৈরি করেন তারা। এতে সপ্তাহে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় হয়। যারা নিয়মিত কাজ করেন তাদের আয় আরো বেশি।
শারমিন বেগম (৩৮) নামের এক নারী বলেন, তিনি যখন ছোট ছিলেন তখন এসব জিনিস তৈরি করা শিখেছেন। সংসারের কাজের পাশাপাশি তাদের গ্রামের অধিকাংশ মহিলারাই এই কাজের সঙ্গে জড়িত। এখানের মহিলারা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরির জন্য যায় না। গ্রামেই কাজের সুযোগ রয়েছে। নারীরা এ পেশায় নিয়োজিত হওয়ায় তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরছে। তবে ন্যায্যমজুরি পেলে নারীরা আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দিন দিন ডালার চাহিদা বাড়ছে। এলাকায় এখন ডালা ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বাড়ছে। আশা করা যায়, আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে মনিরামপুর উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এই ডালা তৈরির কাজ শুরু হবে। আকার ও আকৃতি অনুসারে এ ঝুড়িগুলো উন্নত দেশে পোষা প্রাণীর জন্যও ব্যবহার করা হয়। সাধারণত উন্নত জাতের বিড়াল, কুকুরসহ আরো অন্যান্য প্রাণীর জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী ও আরামদায়ক হওয়ায় বিদেশে এর চাহিদা অনেক। এই শিল্পই নারীদের আরো স্বাবলম্বী করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat