সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ 'ইস্ট-ওয়েস্ট' (পেট্রোলাইন) তেলের পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) চালানো এই ড্রোন হামলাগুলো প্রতিবেশী দেশ ইরাকের অভ্যন্তর থেকে পরিচালিত হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দীর্ঘ ১,২০১ কিলোমিটার বিস্তৃত এই মূল পাইপলাইনের কার্যক্রম ও তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
একই সাথে কৌশলগত কারণে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইরাকের অনুরোধে আপাতত পাল্টা সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে রিয়াদ।
সৌদির জ্বালানি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী:
হামলার স্থান ও প্রভাব: রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করা পাইপলাইন অংশে একাধিক ড্রোন আঘাত হানে। স্যাটেলাইট চিত্রে মদিনার দক্ষিণ-পূর্বের মরূভূমিতে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ও কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
ক্ষয়ক্ষতি: হামলায় কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ ও জরুরি কারিগরি টিম ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ নিরূপণে কাজ করছে।
জ্বালানি সরবরাহে চাপ: কৌশলগত লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সাথে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় আবকাইক তেলক্ষেত্রকে যুক্ত করা এই পাইপলাইনটি বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরাকের অভ্যন্তরের মায়সান প্রদেশ থেকে ড্রোনগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর বাগদাদ প্রশাসন দ্রুত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা নিয়েছে:
সেনা কমান্ডার বরখাস্ত: ঘটনার পর তদন্তে হামলার স্থান চিহ্নিত হওয়ায় দেশটির মায়সান প্রদেশের সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
ইরান সীমান্ত বন্ধ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাসহ দায়ীদের গ্রেপ্তারে দেশজুড়ে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ 'শালামচেহ' (Shalamcheh) সীমান্ত ক্রসিং সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বাগদাদ।
কূটনৈতিক বার্তা: ইরাকি সরকার সৌদির সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
রিয়াদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সৌদির রয়েছে। তবে বন্ধুপ্রতীম দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ইরাক সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও যৌথ তদন্তের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।