মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র বিরোধ ও দ্বন্দ্বের জেরে এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রচলিত গণমাধ্যমের পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন ও বিরোধিতার জবাব দিতে এবং সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা সম্প্রচার মাধ্যম, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রাম্প টিভি’ নামেই বেশি পরিচিতি লাভ করেছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে মার্কিন রাজনৈতিক ও মিডিয়া অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করে আসছে। ঐতিহ্যগত প্রেস ব্রিফিং বা সাংবাদিকদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি নিজেদের অনুসারী এবং সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদের কাছে প্রশাসনিক সাফল্য ও নীতিগুলো তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই নিজস্ব টেলিভিশন ও ডিজিটাল স্ট্রিমিং চ্যানেলটি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো রকম মধ্যস্থতা বা ফিল্টার ছাড়াই সরাসরি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এবং সরকারি কার্যক্রম জনগণের সামনে প্রচার করা সম্ভব হবে।
হোয়াইট হাউসের এই নিজস্ব সম্প্রচার মাধ্যম চালুর ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর এক ধরনের সরাসরি আঘাত ও বিকল্প প্রোপাগাণ্ডা মেশিন হিসেবে দেখছেন দেশটির প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম সরকারের জবাবদিহিতা কমিয়ে দিতে পারে এবং সত্য ও তথ্যের অবাধ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকরা এই উদ্যোগকে পচা ও একপেশে মিডিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙার একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এই প্রকাশ্য বিরোধ এবং ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর ঘটনা মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এটি দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর বিশ্ব মিডিয়ার।