বিশ্ব রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার এবং নিজস্ব প্রযুক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবার নাগরিকদের বিদেশযাত্রার ওপর অভূতপূর্ব কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীনের কমিউনিস্ট সরকার। বেইজিং প্রণীত নতুন ‘এগজিট অ্যান্ড এন্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (Exit and Entry Administration) আইনের আওতায় যেকোনো স্পর্শকাতর খাতের কর্মী, গবেষক বা সাধারণ নাগরিকের বিদেশযাত্রায় সরাসরি ভেটো দেওয়ার অসীম ক্ষমতা পেয়েছে সীমান্ত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল অপরাধ দমন নয়, বরং চীনের ভেতরে থাকা মেধা ও উন্নত প্রযুক্তি বাইরে পাচার হওয়া ঠেকানোর এক মাস্টারপ্ল্যান।
প্রযুক্তি ও মেধা পাচার রোধ (Tech Leak): সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং প্রতিরক্ষা খাতের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল গবেষণায় যুক্ত বিশেষজ্ঞ বা প্রকৌশলীরা যাতে অন্য দেশে গিয়ে তথ্য পাচার করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে তাঁদের ভিসা ও চলাচলে বিশেষ ট্র্যাকিং বসানো হচ্ছে।
সীমান্তপার অনলাইন স্ক্যাম ও জুয়া প্রতিরোধ: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে (যেমন মায়ানমার, কম্বোডিয়া) গড়ে ওঠা অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো ও সাইবার ফ্রড সিন্ডিকেটে চীনের নাগরিকদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এই কঠোরতা।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাত: বিদেশে গিয়ে সরকারের নীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে—এমন সন্দেহভাজন রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যক্তিবর্গের দেশত্যাগ পুরোপুরি বন্ধ করার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অভিবাসন দপ্তরকে।
| ক্ষেত্র | পূর্বের নিয়ম | নতুন আইনের প্রভাব ও শাস্তি |
| প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ | সাধারণ পাসপোর্ট ও নিয়মতান্ত্রিক ভিসা | সংবেদনশীল প্রজেক্টে যুক্ত থাকলে বিদেশে যাওয়ার পূর্বে বিশেষ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক |
| নথিপত্র ও আবেদন | তথ্য ভুলের জন্য জরিমানা বা আবেদন বাতিল | ভিসা বা পাসপোর্টে মিথ্যা তথ্য দিলে ৬ মাস থেকে ৩ বছরের জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা |
| কর্মকর্তা ও ব্যাঙ্কার | নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক পদে সীমিত নজরদারি | সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তাদের পাসপোর্টের তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে তদারকি |
পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, চীন সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে বড় ধরনের বার্তা দিচ্ছে। একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য বেইজিং তাদের অভ্যন্তরীণ উদ্ভাবকদের ধরে রাখতে চাচ্ছে, অন্যদিকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চীনে কাজ করা বিদেশি ও চীনা বিশেষজ্ঞদের ফ্রিল্যান্স চলাচলে সংকট তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।