ডিজেল, পেট্রল এবং অকটেনের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর থেকেই সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক, ছাত্র সমাজ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ রাস্তায় নেমে এর জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনজীবনে নেমে আসা চরম অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কায় দেশজুড়ে এক প্রকার অস্থিতিশীল ও উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে পুরো দেশের অর্থনীতিতে। দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর ও মহাসড়কগুলোতে পণ্যবাহী ট্রাক ও কভার্ডভ্যানের ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় (যেমন: বেনাপোলে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি) সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্বল্প ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে জ্বালানি তেলের এই অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খণ্ড খণ্ড মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিশেষ করে গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বকেয়া বেতনের আন্দোলনের পাশাপাশি জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব শ্রমিকদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রতিবাদকারীরা।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দেওয়া বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় একটি পরীক্ষা। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নীতিনির্ধারক মহলকে দ্রুত কার্যকর ও নমনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।