দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার সিকিউরিটি আইন যাতে কোনো অবস্থাতেই সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক কর্মী কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিপীড়নমূলক বা হয়রানির হাতিয়ার হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইনগুলোর সংস্কার, প্রয়োগ এবং এর আওতাধীন তদন্ত প্রক্রিয়ায় জনস্বার্থ, নাগরিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইন ও এর অপপ্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা উদ্বেগ ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল দিকসমূহ ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বার্তা:
নিপীড়নমূলক ধারা ও অপব্যবহার রোধ: অতীতে সাইবার সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনের অপব্যবহার করে বহু মানুষকে অযথা হয়রানি করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার আইনের এমন কোনো প্রয়োগ বা ধারা রাখবে না যা জনগণের মৌলিক অধিকার বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা: কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা ভিন্নমতের কেউ যেন সাইবার আইনের খাঁড়ায় পড়ে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অত্যন্ত সতর্ক ও সংবেদনশীল থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ছাড়া কিংবা সুনির্দিষ্ট ও শক্ত প্রমাণ মেলানো ছাড়া যত্রতত্র মামলা বা গ্রেপ্তারের প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যুগোপযোগী সংস্কার ও অংশীজনদের অংশগ্রহণ: সাইবার সিকিউরিটি আইনকে আরও জনবান্ধব, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে এর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধনের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় আইন বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ, মানবাধিকার কর্মী এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুচিন্তিত মতামত ও সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নীতিগত ঘোষণার ফলে সাইবার অপরাধ দমনের নামে চলা অপ্রয়োজনীয় হয়রানি ও ভীতিপ্রদর্শনমূলক সংস্কৃতির অবসান ঘটবে এবং দেশে একটি নিরাপদ অথচ স্বাধীন তথ্যপ্রযুক্তি ও মতপ্রকাশের পরিবেশ গড়ে উঠবে।