মো: হযরত আলীরানা, স্টার্ফ রিপোর্টার:
মসজিদের খতিব মোহেববুল্লাহ মিয়াজি ২৪, ১০,২০২৫ ইং তারিখে অপহৃত হয়েছেন সংক্রান্ত একটি এজাহার দায়ের করেন টুঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা নং-৫৪, ধারা-৩২৩/৩৪১/২৯৫A/৩৬৪/৩৭৯/৩০৭;৫০৬/৩৪ পেনাল কোর্ড রেকড করা হয়।
এজাহারের বক্তব্য অনুযায়ী জানা যায় গত২২/১০/২০২৫ ইং সকাল ৭ ঘটিকায় বর্ণিত মামলার বাদী টিএন্ডটি বাজার মসজিদের খতিব মেহেববুল্লাহ মিয়াজি (৬০)মনিং ওয়ার্কে বের হলে বাসার অদুরে টুঙ্গী থানানাধীন শিলমুন সাকিনস্হ অ্যাক্সেস লিংক সিএনজি ফিলিং স্টেশন এর সামনে টুঙ্গী টু কালিগন্জ গামী সড়কের উপর থাকা এম্বুলেন্স তাহার পথ রোধ করে দাঁড়ায় তাকে হত্যার উদ্দেশে অপহরণ করে। ৪/৫ জন লোক তাকে জোর পূর্বক আম্বুলেন্সে উঠায় সাথে সাথে চোখে কালো কাপর বেধে নির্যাতন করতে থাকে। এভাবে থেমে থেমে নির্যাতন চালায়। টানা একদিন এভাবে চলতে থাকে প্রান নাশের উদ্দেশে কাচেঁর বোতল দিয়ে আঘাত করতে থাকে ও দাঁড়ি কেটে দেয়। এক পর্যায়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ৪/৫ জন বিবাদী তাকে বিবস্ত্র করে ফেলে দিনের আলো হতে থাকলে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকল দিয়ে তার বাম পা গাছের সাথে বেধে রেখে চলে যায়।
বিবাদীরা তার সাথে থাকা ২ টি সিম ও মোবাইল নাম্বার - ০১৭২৫৯৬৫৭৫৮/০১৬৭৬১০২৭৫৬ সহ মোবাইল ফোন যাহার মুল্য ১৬৫০০ টাকা নিয়ে নেয়। রাস্তায় চলা চলের লোক ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ তাকে উদ্বার করে পঞ্চগর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি পঞ্চগড় থেকে তার বর্তমান ঠিকানার বাসায় আসেন।
মামলার তদন্ত টিম বিভিন্ন সিসি ফুটেজ সংগ্রহ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নেন। তদন্ত কালে দেখা যায ভিকটিম বাসা থেকে হেঁটে নিমতলী সিএনজি পাম্প পার হয়ে পুবাইল থানা দিন মাজু খান ১৪ তলা পার হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। বাদী সামনে এগিয়ে যায় তার এজাহারে ৪-৫ জন ব্যক্তি কর্তৃক তাকে এম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও ঐ সময়ের তিন ঘণ্টার মধ্যে কোন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স চলাচল সিসি ক্যামেরা দেখা যায়নি। ২২,১০,২০২৫ তারিখ দুপুর হনুমান ১১:৩৬ ঘটিকার সময় ভিকটিম এর অবস্থান ঢাকা মহানগর এর সোবাহান বাগ এলাকা সংলগ্ন প্লাজা এ আর এর পাশে অবস্থানরত দেখা যায়। এরপর ভিকটিম ঢাকার গাবতলী শ্যামলী কাউন্টার হতে তিনি নিজে একই তারিখ দুপুর অনুমান ০২ ২ ঘটিকায় সময় ঢাকা হতে পঞ্চগড় শ্যামলী পরিবহন এর বাস, যার রেজি নং - ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৪৩২৬ এর ই- ১ সিটের টিকেট ক্রয় করে উঠে পড়েন। অতঃপর যাত্রাপথে ভিকটিম এর বাপ বগুড়া জেলার শেরপুর থানাদিন পেন্টাগন হোটেলে যাত্রা বিরতি করলে তিনি বাস থেকে নেমে হোটেলে নামাজ পড়ে দ্রুত বাসে ওঠেন। বিষয়টি পেন্টাগন হোটেলের সিসি ক্যামেরায় ফুটেজ বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে বাসের কৃতপক্ষ কে বাসে গমনকারী যাত্রীদের সাথে কথা বলে ভিকটিমের অবস্থান ও বাসে গমনের বিষয়টি জানাযায়।সিসি ক্যামেরায় ফুটেজ ও বাস যাত্রার বিষয়ে মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ মিয়াজি কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান যে গত ২২/১০/২০২৫ তারিখ সকাল ৭ ঘটিকায় সময় টুঙ্গী পূর্ব থানা দিন টিএন্ডটি বাসা থেকে হাঁটতে বের হয়ে পুবাইল থানা দিন মাজু খান এলাকা এলাকার দিকে যেতে থাকেন। মাজু খান যাওয়ার পর ভিকটিমের মাথায় আরো এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা জাগে। হলে মাঝখান থেকে অটোরিক্সা যুগে ভিকটিম পুবাইল থানা দিন মীরের বাজারে গিয়ে নামেন এবং সেখান থেকে সিএনজিতে করে বাসন থানা দিন ভোগরা বাইবাস এলাকায় গিয়ে নামেন। ভোহরা বাই বাস হতে ঢাকা মহানগরের গাবতলী শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে উদ্দেশ্যে বাস যোগে পৌঁছান। সেখানে অবস্থানকাল ভিক্টিম পঞ্চগড় জেলায় যাওয়ার চিন্তা করে পঞ্চগড় গামী শ্যামলী শ্যামলী পরিবহনের বাসের টিকেট কেটে ফেলে। ০২ ঘটিকায় যাত্রা শুরু করেন। ভিক্টম বাসে উঠে তার পাঞ্জাবি পকেটে থাকা ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাস্ক পরিধান করেন। বাসটি যাত্রা পথে বগুড়া জেলার শেরপুর থানা দিন পেন্টাগন হোটেলে মাগরিবের নামাজের জন্য সন্ধ্যা ৫:৪০ ঘটিকায় সময় যাত্রা বিরতি করলে তিনি বাস থেকে হোটেলে নেমে নামাজ পড়ে দ্রুত বাসে ওঠে। অতঃপর রাত অনুমান ১১ঃ৩০ ঘটিকা হতে ১২:০০ ঘটিকার মধ্যে পঞ্চগর জেলার সর্বশেষ বাস স্টেশনে তার প্রসাবের বেগ হলে তুমি আজ আরো কিছু দূর এগিয়ে অন্ধকার একটি জায়গায় রাস্তার পাশে প্রসাব করতে গেলে, এস্টেট গ্রন্থির রোগেরমনের কারণে কারণে আর পায়জামা ও পাঞ্জাবি ভিজে গেলে তিনি তার নিজ হাতে পায়জামা ও পাঞ্জাবি খুলে ফেলেন। কিন্তু কিছুটা ঠান্ডা অনুভব করায় এবং ক্লান্ত থাকায় অচেতন মনের কারণে তার পক্ষে পাজামা ও পাঞ্জাবি করা সম্ভব হয়নি। এ সময় রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া সোনালী রঙের একটি ছোট তালা সংযুক্ত একটি শিকল তিনি গায়ে জড়িয়ে রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে জেগে তিনি দেখতে পান তিনি পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে আছেন। আশেপাশের উলামায়ে কেরামগণ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তার অচেতন মনে তিনি বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলেন।
বর্তমানে মামলা টি তদন্তধীন রয়েছে। এবং যাচাই বাছাই চলছে, এখানে কোন ব্যক্তি গা গুষ্টি জড়িত আছে কিনা তাই স্পষ্ট নয় তাই ওধিক তদন্তের পর পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..