কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো মহলের চাপ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কেউ কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করলে বা তদবির করলে তিনি গণমাধ্যমের সামনে তাদের নাম প্রকাশ করে দেবেন।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি ও টাকার অভিযোগের জবাব
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে হয়রানি বা আটকের পর টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ প্রসঙ্গে এসপি আনিসুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দিতে পারলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
অপ্রতিম হত্যা ও লাগাতার অভিযান
সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো জেলায় তালিকা তৈরি করে ১৮টি থানায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক এই অভিযানের অংশ হিসেবে:
গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেলার ১৮টি থানায় প্রথম দফার অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
২৬ সেপ্টেম্বর রাতের অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়; যার মধ্যে ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ১০৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এছাড়া পরবর্তী অভিযানে আরও ৪৭৮ জনকে আটক করা হয়, যার ২৭৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মার ছেড়ে দেওয়া হয়। অস্ত্র নিয়ে মহড়াকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হচ্ছে।
‘বড় ভাইদের’ ছাড় দেওয়া হবে না
অভিভাবকদের প্রতি সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে সন্তানদের বাইরে না রাখার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান কোনো বিরতি ছাড়াই অব্যাহত থাকবে। অপরাধের পেছনে কোনো প্রভাবশালী বা ‘বড় ভাই’ কিংবা অভিভাবকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে কঠোর বার্তা দেন তিনি।