নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
গত এক বছরে ফরিদপুর জেলায় নানা ধরনের নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, নির্মাণকাজের চাহিদা বাড়লেও গত এক দশকে জেলাটিতে ইটভাটার সংখ্যা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। চাহিদা ও জোগানের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে বাজারে ইটের পাশাপাশি ব্যাপকহারে বেড়েছে সব ধরনের বালুর দাম। জেলার বিভিন্ন ইটভাটা ও বালু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র উঠে এসেছে।
ইটভাটার সংখ্যা হ্রাস ও দাম বৃদ্ধির চিত্র:
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক দশক আগেও ফরিদপুর জেলায় প্রায় ১২০টি ইটভাটা চালু ছিল। বর্তমানে তা কমতে কমতে সনাতন পদ্ধতির মাত্র ৬০টি ইটভাটা এবং ৭টি অটো ইটভাটা চালু রয়েছে। অন্যদিকে বালু ব্যবসার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের পাশে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রমরমা ব্যবসা চলছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্মাণসামগ্রীর দামের চিত্র নিম্নরূপ:
ইট: গত বছর যে ইটের হাজারপ্রতি দাম ছিল ১০ হাজার টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর অটো ব্রিকস বা আধুনিক ইটের দাম প্রতি হাজার ১১ হাজার ৭০০ টাকা (পরিবহন খরচ বাদে) পর্যন্ত ঠেকেছে।
সাধারণ বালু (ধুলো বালু): গত বছর ফুটপ্রতি ১০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ টাকা।
ভালো বালু: পূর্বে প্রতি ফুট ২৭ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে।
সিলেট ও পঞ্চগড়ের লাল বালু: এই মানের বালু গত বছর ৭০ টাকা ফুট থাকলেও বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ টাকা ফুট পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য:
ভাটামালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণেই মূলত দাম বাড়াতে হয়েছে। এ বিষয়ে সালথার বাসিন্দা জাকির হাসান জানান, অন্যান্য পণ্যের তুলনায় ইটের দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও বালুর দাম বেশ চড়া। তবে নির্মাণকাজের চাহিদা এতটাই বেশি যে, বেশিরভাগ ভাটা বা বালুর খোলায় পর্যাপ্ত ইট-বালু মজুত থাকে না।
বোয়ালমারীর ‘রাজ ব্রিকস’-এর ম্যানেজার কমল ভদ্র বলেন, কয়লা ও তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ১৬ হাজার ৫০০ টাকার কয়লা বর্তমানে ২৪ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বাড়ার কারণে হাজারপ্রতি ইটের দাম দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে বর্তমান অফ-সিজন পার হয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন ইট বাজারে এলে চাহিদা অনুযায়ী দামের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে।
অন্যদিকে, আল-আলি অটো ব্রিকসের ম্যানেজার সবুজ মিয়া জানান, ফরিদপুরের ৭টি অটো ব্রিকসেই বর্তমানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্ডারও পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাকা স্থাপনা ও অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চাহিদা বাড়লেও পরিবেশগত কড়াকড়ি ও অন্যান্য কারণে ইটভাটার সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় সামগ্রিক নির্মাণ খাতে খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।