মোঃ মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বসতবাড়ি সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের ঘটনায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগের সুরাহা মেলেনি। ঘটনা তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও থানায় আহূত সালিশি বৈঠকে উপস্থিত হয়নি অভিযুক্ত পক্ষ। ফলে পুলিশের মধ্যস্থতায় বৈঠকের উদ্যোগ পণ্ড হয়ে যায় এবং ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার।
উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের কামিতার পাড়া এলাকায় সম্প্রতি এই সহিংসতার ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ:
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবজোম কামিতার পাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে নার্গিস আক্তার (২৬) বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে প্রকাশ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাদী ও তাঁর পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:০০ ঘটিকার সময় সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে আব্দুল জব্বারের চা দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে দোকানে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব ও তছনছ চালায়। এ সময় দোকানে থাকা নগদ টাকা ও মালামাল লুটপাটসহ আনুমানিক ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। দোকান ভাঙচুর ও তাণ্ডবের প্রতিবাদ করতে গেলে আব্দুল জব্বারকে এলোপাতাড়ি মারধর ও রক্তাক্ত করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দা ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পিছু হটে। স্থান ত্যাগ করার সময় বিষয়টি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা বা বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয় বিবাদীরা।
অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিরা:
ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন— ১. নুরুল আলম (৩০), পিতা: মৃত আলী আকবর; ২. রুপা আক্তার (২১), পিতা: মো. একরাম; ৩. মাহি আক্তার (১৯), পিতা: মো. একরাম এবং ৪. বেবী আক্তার (৩৮), স্বামী: মো. একরাম। তারা সকলেই কুতুবজোম কামিতার পাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও থানায় বৈঠক পণ্ড:
অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে মহেশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে বিষয়টি সুরাহার লক্ষ্যে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০ ঘটিকায় থানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন।
বাদী পক্ষ নির্ধারিত সময়ে থানায় হাজির হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলে এসআই কাজল ফোনে জানান, বিবাদী পক্ষ বিকেল ৪টায় আসতে পারবে না, তাই তাদের সন্ধ্যা ৬টায় থানায় আসার জন্য বলা হয়েছে। পুলিশের নির্দেশনা মেনে বাদী নার্গিস আক্তার, তাঁর আহত পিতা আব্দুল জব্বার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় মহেশখালী থানায় উপস্থিত হন।
তবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও অভিযুক্তদের কেউ থানায় উপস্থিত হয়নি। রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত বাদী পক্ষ থানায় অপেক্ষা করার পর এসআই কাজলের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি জানান, "যেহেতু অভিযুক্ত পক্ষ আসেনি, তাই এখন আর কিছু করার নেই; আপনারা আপাতত বাসায় চলে যান।" পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশ নিয়ে ফিরে আসেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি:
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার জানান, "দোকান ভাঙচুর ও বাবাকে মারধরের পর উল্টো আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা আইনি প্রতিকার চাইতে থানায় গেলাম, কিন্তু বিবাদীরা থানার ডাককেও পাত্তা দিল না। এতে তাদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে গেছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) কাজল জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছিল এবং দুই পক্ষকে নিয়ে বসার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিবাদী পক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..