নরিন জাহান, জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জ, ১০ অক্টোবর ২০২৬: দেবীপক্ষের সূচনা, মায়ের আগমনী বার্তা আর শান্তি-সম্প্রীতির প্রত্যাশা—এই আবহে নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়ার পূজামণ্ডপে মহালয়া উপলক্ষে জড়ো হয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষ। মহালয়াকে ঘিরে ভক্তদের উপস্থিতিতে এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
মহালয়া শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে আবেগ, ঐতিহ্য ও নতুন আশার প্রতীক। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে এ দিন থেকেই শুরু হয় দেবীপক্ষ। চণ্ডীপাঠ, দেবী দুর্গার আগমনী বন্দনা এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণের মধ্য দিয়ে দিনটির ধর্মীয় তাৎপর্য প্রকাশ পায়।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক দেবী দুর্গা। মায়ের আগমনকে ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা—পৃথিবী থেকে অশান্তি দূর হোক, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়বিচার, মানুষের জীবনে আসুক সুখ-সমৃদ্ধি। পূজার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রত্যেকে নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন।
এবারের মহালয়াকে ঘিরেও ভক্তদের প্রত্যাশা, আসন্ন দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে গড়ে তুলবে সম্প্রীতির বন্ধন। উৎসব হোক সবার, আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে।
তবে উৎসবের আনন্দকে সর্বজনীন করতে প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত রেখে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রত্যাশা সবার।
আমলাপাড়ার এই মহালয়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে এখন শারদীয় দুর্গোৎসবের অপেক্ষা। ভক্তদের হৃদয়ে একটাই প্রার্থনা—মা দুর্গার আগমনে দূর হোক অশুভ, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, পূরণ হোক মানুষের ন্যায্য আশা-আকাঙ্ক্ষা।
এ জাতীয় আরো খবর..