সাইফুল ইসলাম, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম পটিয়া থানা পুলিশের উদ্যোগে এক বিশেষ মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে থানা চত্বরে স্থানীয় সুধীজন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ জিয়াউল হক-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা মনিটরিং কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সম্মানিত সদস্যবৃন্দ বিশেষ অতিথি ও সুধীজন হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উপস্থিত উপদেষ্টাবৃন্দের মধ্যে ছিলেন জনাব খোরশেদ আলম সাবেক সদস্য সচিব, বিএনপি, পটিয়া উপজেলা, তাপস কুমার দে (যুগ্ম সম্পাদক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, দিলীপ ঘোষ দিপু, সিনিয়র সহ-সভাপতি, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পটিয়া উপজেলা,মাষ্টার শ্যামল কান্তি দে সভাপতি, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী পরিষদ বাংলাদেশ, পটিয়া উপজেলা শাখা, পুলক চৌধুরী সভাপতি, প্রাগণিশিক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, মাষ্টার রূপক শীল সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম জেলা।
পুলিশ সুপার জনাব আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সভায় বক্তারা দুর্গোৎসবকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা ও মনিটরিং ব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ জিয়াউল হক বলেন, পটিয়ার মাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা চলাকালীন যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতা কঠোরহস্তে দমন করা হবে। পূজা মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের সমন্বয়ে বহুমুখী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় সুধীজন ও স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ পূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক নানা দিক তুলে ধরেন।পটিয়া থানা আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ জাতীয় আরো খবর..