নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পোশাক খাতসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল রবিবার একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ।
আজ শনিবার মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠক শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, "গত কাল শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ চার ঘণ্টা অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকের প্রেক্ষিতেই আমরা ঘোষণা দিয়েছি যে আগামীকাল রোববার আমরা নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করতে যাচ্ছি। যেহেতু আগামীকালই এই বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার পর আমরা গেজেট আকারে তা প্রকাশ করব, তাই এরপরে রাজপথে কোনো ধরনের আন্দোলন বা অসন্তোষ থাকার কথা নয়।"
উল্লেখ্য, গত বেশ কিছুদিন ধরে পোশাকশ্রমিকরা তাঁদের মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার যৌক্তিক দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার রাজধানীর ব্যস্ততম মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শ্রমিকরা।
আন্দোলনের নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী আরিফ বলেন, "প্রায়শই দেখা যায় যে বাইরে থেকে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র নানাভাবে শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে। আপনারা সাংবাদিকরাও যেমন জানেন, আমরাও তেমনি জানি—আসলে এই চক্রটি কারা? শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে কি তাদের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা আছে, নাকি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দাবির প্রতি তাদের কোনো নৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে?"
পোশাক শিল্প খাতকে নিয়ে গভীর কোনো চক্রান্ত চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "বর্তমান এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়ে একটি জাতি হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই আরও গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।"
শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, "যেহেতু আগামীকাল রোববারই আমরা নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করতে যাচ্ছি এবং আজ শনিবার হওয়ায় ছুটির দিনেই এই ঘোষণা আসছে, তাই এর পরে শ্রমিক ভাই-বোনদের মাঝে অসপ্তোষ কিংবা বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কোনো বাস্তব কারণ থাকতে পারে না। আমি একান্তভাবে আশা করছি, শ্রমিকেরা তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ও কারখানায় ফিরে যাবেন।