বিশেষ প্রতিবেদক:
অবৈধ গ্যাস সংযোগ, পুরোনো পাইপলাইন, মিটার পরিমাপের ত্রুটি এবং সুনির্দিষ্ট বিলিং অসংগতির কারণে গত দুই অর্থবছরে ৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেম লস বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সরকারি অনুমোদিত সীমার প্রায় পাঁচ গুণ।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সিস্টেম লসের পরিমাণ ২ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিতাসের সর্বোচ্চ অনুমোদিত সিস্টেম লস মাত্র ২ শতাংশ, সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.২৮ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে ৭.৬৭ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯.৪৭ শতাংশ এবং বর্তমানে তা ৯.৯৬ শতাংশে এসে ঠেকেছে।
সিস্টেম লস ও আর্থিক ক্ষতির প্রধান কারণসমূহ:
অবৈধ সংযোগ ও লিকেজ: ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের পুরোনো ও ক্ষয়প্রাপ্ত পাইপলাইন এবং নতুন করে স্থাপন করা অবৈধ সংযোগ গ্যাস অপচয়ের অন্যতম বড় কারণ। অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও তা পুনরায় স্থাপন করা হচ্ছে।
মিটারের পরিমাপে অমিল: জিটিসিএলের প্রধান মিটার এবং তিতাসের বিতরণ নেটওয়ার্কের প্রায় ১ হাজার ৫০০টি দ্বিতীয় পর্যায়ের মিটারের পরিমাপে পার্থক্যের কারণেও বড় অংকের গ্যাস হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
নির্দিষ্ট হারে বিল আদায়: মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বাস্তবে গ্যাসের ব্যবহার বেশি হলেও নির্ধারিত পুরোনো নিয়মে বিল করায় প্রতিষ্ঠান আর্থিক লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছে।
নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান এসিএনএবিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিতাস ১৫ হাজার ৪২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রহণ করলেও গ্রাহকদের কাছে বিল করতে পেরেছে ১৩ হাজার ৮৯২ মিলিয়ন ঘনফুটের। গ্যাস সরবরাহ ও বিল করার এই ব্যবধানে ১ হাজার ৫৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের কোনো বিল পাওয়া যায়নি।
ক্রমবর্ধমানের লোকসানের চিত্র: সিস্টেম লসের পাশাপাশি তিতাসের সার্বিক আর্থিক সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত চার বছরে (২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬) প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই নিট লোকসান হয়েছে ৫৯৫ কোটি টাকা (আগের অর্থবছরে যা ছিল ৭৭২ কোটি টাকা)। তবে এতকিছুর মধ্যেও চলতি অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।