×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৪-১১-২০
  • ১২৬ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মাহাবুল ইসলাম আবির 

নারায়ণগঞ্জের নেতা জাকির  খান কে তার সাহসিকতা ও রাজনৈতিক মেধা দেখে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী আকৃষ্ট হয়ে নিজের নাতি বলে পরিচয় দেন জাকির খান কে। সেই থেকে জাকির খান আব্দুল মতিন চৌধুরীর নাতি হয়ে ওঠে। ছোটবেলা থেকেই জাকির খান ছিলেন খুব চঞ্চলও সাহসিকতার  প্রকৃতির মানুষ। ছোটবেলা থেকেই জাকির খানের ছিল রাজনীতির প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও মানুষকে সাহায্য করার প্রতি ছিল তার প্রবল ইচ্ছা। সেই থেকেই জাকির খান হয়ে ওঠে জনগণের নেতা ও তারুণ্যের অহংকার তরুণ রাজনীতির প্রবর্তক। ১৯৯৪ সালে সাবেক নেতা কামাল উদ্দিন রিদয়ের নেতৃত্বে জাকির খান বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৫ সালে দেওভোগ এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করলে এ মামলা জাকির খান কে ফাঁসানো হয় বলে জানায় তার সমর্থকরা। ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের খাজা সুপার মার্কেট হামলা ও ভাঙচুরের মিথ্যা দায়েরকৃত মিথ্যা  মামলায ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় জাকির খান। কিন্তু তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পান জাকির খান। সে সময়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী  নাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন সমগ্র বাংলাদেশে । ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ  সরকার ক্ষমতায় আসার ৭ মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর বাংলাবাজার এলাকায় এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি আওয়ামী লীগ সরকারের  দায়েরকৃত মিথ্যা  মামলায় জাকির খানের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয় এবং তিনি জেলে যান। আওয়ামী লীগের ৪ বছর জাকির খান থাকেন  জেলে। 1999 চালে স্বল্প সময়ের জন্য জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জাকির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল এর সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের শাসন আমলের শেষ দিকে  ২০০০ সালের শামীম ওসমান টানবাজার ও নিম তুলি পতিতালয় উচ্ছেদ করে এ কারণে জাকির খানের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে যায় বলে মিথ্যা গুজব ছড়ানো। গাড়িবহরে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার মিথ্যা মামলায় জাকির খান কে তত্ত্বাবধায়ক  সরকারের আমলে আবারো আবার কারাবন্দি জাকির খান। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পড়ো টানা ৫ মাস কারাবন্দি ছিলেন জাকির খান। ২০০৩ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি সাব্বির আলম খন্দকার হত্যার  পর এ মামলায় আসামি হিসেবে সন্দেহজনক ভাবে জাকির খানের নামে মামলা দায়ের করা হয়। এ এ মামলা দায়ের করার পর জাকির খান থাইল্যান্ডে চলে যায় বলে শোনা যায়। এরপর জাকির খানের রাজনৈতিক কেরিয়ার নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন থানায় চারটি হত্যাসহ তিন ডজনেও বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বলে জানা যায়। 
বিএনপির এক সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকারের কাউন্টারম্যান হিসেবে জাকির খানকে বিএনপির রাজনীতিতে পূর্ণবাসনের চেষ্টা চালানো হয় জেলার এমপি ও তার অনুসারী থেকে। এ গ্রুপটি মূলত তৈমুর  আলম খন্দকারের প্রতিপক্ষ গুরুপ হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালে ২৫ শে নভেম্বর তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার পর বিএনপির কর্তৃত্ব তার কাছে চলে যায়। এতে খুব দয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাদের  সুসংহত করতেই জাকির খানকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে বেছে নেন। এসব গ্রুপের সেসময়ে  জাকির খান  বিএনপির হাই কমান্ডের কয়েকজনের সাথে একাধিক বৈঠক করে বলে জানা যায়। নারায়ণগঞ্জে জাকির খানের অনুপস্থিত তার হাজারো সমর্থকরা বিভিন্ন দিবস গুলোতে তার ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে মিছিল মিটিং চালিয়ে যায়।
 
প্রসঙ্গত, সাব্বির আলম খন্দকার ছিলেন গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার এন্ড মেনুফ্যাকচারাস অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক ও ও সাবেক সভাপতি।তিনি বিএনপি নেতা খন্দকারের ছোট ভাই। 

তার ওপর ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১৩ নং ওয়ার্ড  কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর সাবেক সভাপতি।  

 সাব্বির আলম খন্দকার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলায় ২০০৩ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইল এলাকায় তা নিজ বাড়ির অধুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। 

হত্যাকাণ্ডের পর তার বড় ভাই  তৈমুর আলম  খন্দকার নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা)  তৎকালীন এমপি গিয়াস উদ্দিনকে  প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।  প্রায় দীর্ঘ ৩৪ মাস তদন্তের পর সিআইডি ২০০৬ সালের ৮ ই জানুয়ারি আদালতে  ৮ জনকে আসামি করে একটি চার্জশিট দাখিল করে। এ চার্জশিটে মামলার প্রধান আসামি গিয়াসউদ্দিন কে মামলা থেকে বাদ দেওয়ায় মামলার বাদী  তৈমুর আলম খন্দকার সিআইডি দেওয়া চার্জসিটের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৪ই জানুয়ারি আদালতের নারাজী পিটিশন জারি করে। 

নারাজি পিডিশনে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন,  গিয়াস উদ্দিন সাব্বির আলম হত্যা মামলার মূল নায়ক। গিয়াস উদ্দিন ও তার সহযোগীদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা গোজামিল চার্জশিট দাখিল করেছেন। পরবর্তীতে আদালত এটিকে পুনরায় তদন্তের জন্য দেওয়া হয়। 

এরপর ৬ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে (ম্যাজিস্ট্রেট কোট)  মামলার শুনানি চলে আসছিল।  গত ২০১১ সালে অক্টোবর মাসে তৈমুর আলম খন্দকার আদালতে নারাজি পিটিশন আবেদন করে মামলা প্রত্যাহারান করে নিয়েছিল।  

নারাজি পিটিশন এর কারণে গিয়াস উদ্দিন মামলায় নেই। কলেজ সিআইডি ২০০৬ সালে ৮ ই জানুয়ারি আদালতে যে ৮ জনের চার্জশিট দিয়েছেন তার উপর ভিত্তি করি মামলাটি পরিচালনা হচ্ছে। 

নারাজি পিটিশন প্রত্যাহার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধান আসামি করা নারায়ণগঞ্জ-৪ দলীয় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে মামলা থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া। সে সময় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তৈমুরের পক্ষে সর্বাত্মক কাজ করবে এমন শর্ত সাপেক্ষে তৈমন না রাজি পিটিশন প্রত্যাহার করে নেয়।অথচ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তৈমুর ও তার পরিবার দাবি করে আসছিল গিয়াসউদ্দিনই সাব্বির হত্যা মামলার মূল নায়ক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat