মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মোঃ মোবারক হোসেন
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সৌদি প্রবাসীর ফাহাদ দেওয়ানের স্ত্রী তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক মাহদী হাসানকে (৩১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল ওয়ারেস। এর আগে, গতকাল রাতে ঢাকার সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়ারেস।
গ্রেফতারকৃত মাহদী হাসান ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার ডগরমোড়া সিআরপি এলাকায় বসবাস করতেন।…
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় প্রেমিক মাদ্রাসা শিক্ষক মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকার সভার এলাকা থেকে সিংগাইর থানা পুলিশের মোঃ মোশারফ হোসেন একটি টিম তাকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত ৩১ বছরের মাহদী হাসান কিশোরগঞ্জের কুরিয়ারচর থানার কৌতেরকান্দি এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর রিয়াদ উল জান্নাত দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
নিহত গৃহবধু তানিয়া আক্তার সিংগাইরের বায়লা ইউনিয়নের বাড্ডা এলাকার সৌদি প্রবাসী ফাহাদ দেওয়ানের স্ত্রী।
পুলিশ মোঃ মাসুদুর রহমান, জানান,স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে গৃহবধু তানিয়া আক্তারের সাথে মোবাইলের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষক মাহদী হাসান বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু গৃহবধু তানিয়া আক্তার মাহদী হাসান ছাড়ার একাধিক পুরুষের সাথে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিষয়টি জানতে পেরে গৃহবধু তানিয়াকে শাসন ও নিষেধ করেন মাহদী হাসান।
এরপরও মাহদী হাসানের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গৃহবধু তানিয়া একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্ক জালিয়ে যায়। পরে মাহদী হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার রাতে তানিয়া আক্তারের সাথে দেখা করতে কেক নিয়ে মাহদী হাসান তানিয়ার শ্বশুড় বাড়ি যায়। পরে কৌশলে গৃহবধু তানিয়াকে বাড়ির বাথরুমের কাছে নিয়ে যায় এবং সেখানে তানিয়াকে মারধর করে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায় মাহদী হাসান। পরে এঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হোসেন বাদি হয়ে সিংগাইর থানায় একটি মামলা করেন।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মো.বশির আহমেদ জানান,ঘটনার পর থানা পুলিশ হত্যায় জড়িতকে গ্রেফতার করতে চেষ্টা করতে থাকে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। আইনগত ব্যবস্থা শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। গ্রেফতারের পর পুলিশকে গৃহবধু তানিয়া আক্তারকে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলেও পুলিশ সুপার জানান।
এ জাতীয় আরো খবর..