মাসুদুর রহমান, কিশোরগঞ্জ
২৫০ সজ্জা বিশিষ্ট কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতলে বহির্বিভাগে রোগীদের কাঙ্খিত সেবা পেতে অনেক ভোগান্তি পেতে হয়। সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায় সকাল আটটা বাজার আগেই রোগীদের দীর্ঘ লাইন হয়ে যায়। বহিঃর্বিভাগের টিকেট কাউন্টারে উপচে পড়া রোগীদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। একটি কাউন্টারে পুরুষ অপর কাউন্টারে মহিলা ও শিশুদের টিকেট দেয়া হয়। ২০২০ সাল হতে অত্র হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালী ঢাকা কর্তৃক বাস্তবায়িত শেয়ার্ড হেলথ রেকর্ড ও অটোমেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনেক রোগী টিকেট কাউন্টারে তাদের তথ্য সঠিকভাবে দিতে না পারার কারণে টিকেট প্রাপ্তি বিলম্বিত হয় এ কারণেই কাউন্টারের লাইনে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। বহি:বিভাগে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, দন্ত, নাক কান গলা, চর্ম যৌন সহ মোটামুটি সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু থাকলেও তা রোগীর চাহিদার তুলনায় নিতান্তই সামান্য।প্রতিটি বিভাগেই দরজার সামনে ৫০ থেকে ১০০ জন রোগীর লাইন লেগেই থাকে। এত রোগীর চাপ ডাক্তারদের জন্য সামাল দেওয়া বেশ কঠিন। তাই চিকিৎসকরা অতি দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে যাতে রোগীরা খুব একটা সন্তুষ্টি পায়না।তবে হাসপাতালের ফার্মেসী হতে রোগীরা বেশ কিছু ঔষধ ফ্রি পেয়ে থাকে বলে তারা নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো বলে জানান। প্রতিদিন প্রায় হাজারখানেক রোগী বহিঃবিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন বলে জানা যায়। কম সংখ্যক মেডিকেল অফিসার দ্বারা এত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা খুবই কঠিন বলে জানান। আর কন্সালটেশন সেবা পাওয়া আরো কঠিন কারণ হিসেবে জানা যায় হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সবসময়ই প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। সব রোগীদের সকালবেলা নিয়মিত ডাক্তার ভিজিট দিতে হয় প্রতিদিন তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বহিঃবিভাগে সময় মত বসতে পারেন না।কয়েকজন রোগী জানান হাসপাতালে নিজস্ব উদ্যোগে যদি বিকাল বেলা ১০০ টাকার বিনিময়ে নরমাল সেবা ও ২০০ টাকার বিনিময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের রোগি দেখার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে গরিব ও মধ্যবিত্ত রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে পারে। ৮০০ টাকা ভিজিট দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতাল ক্লিনিকে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে পারেনা এছাড়াও পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যাপক ব্যায়ভার বহন করতে হিমশিম খায়। এসব কারণ বিবেচনা করে রোগীরা হাসপাতালটিতে নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে ডাক্তার দেখানো ও পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যাবস্হা করার দাবী জানান। এ কার্যক্রমটি যদি শুরু করা যায় তাহলে সাধারণ নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত সকলেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবে। ২০২৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে হাসপাতালটিতে জাতীয় পরিচয় পত্র মাধ্যমে সকল সেবা প্রদান করার যে সিদ্ধান্ত ছিলো তা সম্পুর্নরুপে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।তবে বর্তমানে ২ ভাবেই চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।কিন্তু এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে সেবা গ্রহন ও পরিচালনা ২টিই সহজ হতো।কারন রোগীর সমস্ত ডাটা ও চিকিৎসা হিস্ট্রি এন আই ডি হতে অটোমেটিক সার্ভারে সংরক্ষনের ব্যাবস্হা থাকতো বলে জানা যায়।তবে বিকেলে ফি এর বিনিময়ে সেবাটি চালু করা রোগীদের পক্ষ হতে হাসপাতাল ককর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতনও কর্তৃপক্ষকে এ দাবিটি বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয়।
এ জাতীয় আরো খবর..