কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে আরিফ হোসেনকে (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ইতালিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে বন্দি করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে। পরে বন্দি আরিফের উপর কয়েক ধাপে নির্যাতন চালিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে বলে দাবি ভোক্তভোগী পরিবারের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাযর অভিযোগের পর ঘটনার সাথে জড়িত এক রোহিঙ্গা সহ মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্যকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। তবে বন্দি আরিফকে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন। এর আগে দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলো কক্সবাজারের মোস্তাক আহমেদ (৫৪), বোরহান (২১), টেকনাফের তৈয়ব (২১) এবং উখিয়ায় বসবাস করা রোহিঙ্গা মো. উল্লাহ (৩৮)। অন্যদিকে, মিয়ানমারে বন্দি আরিফ হোসেন কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিয়াখোলা গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে।
ওসি বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এক রোহিঙ্গা সহ আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছে, ভিকটিম আরিফ বর্তমানে মিয়ানমারে আছে। তাকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
বন্দির স্বজনরা জানায়, আরিফ হোসেন দুই বছর আগে মালয়েশিয়ায় কর্মরত থাকা অবস্থায় দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় কক্সবাজারের রামুর পশ্চিম সিকদার পাড়ার কামাল উদ্দিনের ছেলে ত্রিশোর্ধ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে। পরে পূর্ব কলাতলির মীর কাশেমের ছেলে মোস্তাক আহমেদ সহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনের সঙ্গে। ওই সময় তারা বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসা করে বলে জানায়। ২০২৩ সালে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন আরিফ হোসেন। এরপর তাকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায় মামুন ও মোস্তাক। একপর্যায়ে ৬ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। এরপর ১১ ডিসেম্বর আবদুল্লাহ আল মামুনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা এবং ১৭ ডিসেম্বর আরও ১ লাখ টাকা পাঠানো হয়। পাশাপাশি নগদ আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
এ জাতীয় আরো খবর..