বাগেরহাটের শরণখোলায় ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রী (১০) কে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কাম নাইট গার্ড পীযুষ কীর্তুনীয়া (৩০) এর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় এলাকাবাসী পীযুষের বিচার দাবি করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। বুধবার উপজেলার রাজাপুর বাজারের সামনে
নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে একজন জানান, সালিশের নামে পীযুষের পরিবারের কাছে সাত আট লক্ষ টাকা দাবি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরে বুধবার সকাল দশটার দিকে স্থানীয়রা পীযুষ কীর্তুনীয়ার শাস্তি ও বিচার দাবি করে রাজাপুর বাজারে মানববন্ধন ও পথসভা করে। মানববন্ধনের খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন।
শরণখোলা থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, মানববন্ধনে ঘটনা শুনে এসেছি। ওই পরিবারে পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, শরণখোলা উপজেলার ৭ নম্বর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী কাম নাইট গার্ড ও রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা পুলিন কীর্তুনীয়া ছেলে পীযূষ কীর্তুনীয়া ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে টিফিন পিরিয়ডে ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে স্কুল বিল্ডিং এর দোতালায় একটি রুমে নিয়ে স্পর্শকাতর যায়গায় হাত দেয়। পরে ঘটনাটি ওই ছাত্রী স্কুল ছুটির পর তার মাকে জানায়। পরে তার অভিভাবকরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে অবহিত করেন। কিন্তু পীযূষ ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কোন কিছু করতে পারিনি। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ায় পর ওই ছাত্রীর অভিভাবকরা স্থানীয় সুধীজনদের জানায়। পরে আপস মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
এ ব্যাপারে ছাত্রীর মা বলেন, তিনি এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন।
শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ শহিদুল্লাহ বলেন, যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মানববন্ধনের পর ওই পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ের বাবা ও মা মেয়েকে নিয়ে বুধবার দুপুরে থানায় এসেছেন। মেয়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে ওই দপ্তরি আসলেই তার স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়েছে এমন অভিযোগ করেন মেয়েটি। তিনি আরো বলেন, ওই মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রস্তুত হচ্ছে। হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।