×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১০-৩০
  • ১৯৫ বার পঠিত
মোঃ অলি উদ্দিন মিলন :


বাংলাদেশ, একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকারকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলেছে। ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এখানে বিদ্যমান। তবে, এ কথা অনস্বীকার্য যে, আমাদের সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও তাদের নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল নয়। রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ—শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইনসভা—কখনও কখনও ধীর গতিতে চললেও, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ, অর্থাৎ গণমাধ্যম, সর্বদা সচল ও সজাগ থাকে। গণমাধ্যমই জনগণের কণ্ঠস্বর, ন্যায়বিচারের মূর্ত প্রতীক এবং রাষ্ট্রীয় অসংগতিগুলো তুলে ধরার প্রধান হাতিয়ার।
গণমাধ্যমের অবিচল ভূমিকা ও সংবাদকর্মীর আত্মত্যাগ
গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের নাগরিক জীবন, সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের জটিল নীতি নির্ধারণ—সবকিছুই প্রতিফলিত হয় গণমাধ্যমে। প্রতিটি সভ্য রাষ্ট্রেই স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্ব অপরিহার্য। একদল বিচক্ষণ, দুঃসাহসী এবং অনুসন্ধিৎসু সংবাদকর্মী প্রতিনিয়ত নিজেদের জীবন বাজি রেখে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে নিযুক্ত থাকেন। সরকারের মন্ত্রী, আমলা, এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের অপকর্ম উন্মোচন করে রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। রাষ্ট্রের প্রভাবশালী ব্যক্তি, বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, বৈদেশিক নীতি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সমাজ ও আইনের প্রতিটি দিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসমক্ষে আসে, যার নেপথ্যে থাকেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মী।
একজন সংবাদকর্মীকে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে হয় এবং আইনি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হয়। কারণ, তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অনেক সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মুখোশ খুলে দেয় এবং সমাজে বড় ধরনের ঘটনার জন্ম দেয়। সত্যের সন্ধানে সংবাদকর্মীরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। দেশের সুপরিচিত ব্যক্তিদের দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করে তারা দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

শিকার থেকে শিকারী: সংবাদকর্মীর নিত্যদিনের সংগ্রাম
কিন্তু এই সত্য প্রকাশের পথ কণ্টকময়। অপরাধ সাম্রাজ্য হারানো ব্যক্তিরা প্রতিবেদকদের ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কখনও পেশীশক্তির জোরে, কখনও প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে, আবার কখনও রাজনৈতিক পরিচয়ে সংবাদকর্মীদের হেনস্থা করার চেষ্টা করা হয়। সুযোগ বুঝে হামলা চালানো হয়, গুম, খুন এবং নির্যাতনের মাধ্যমে প্রতিশোধ নিতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না।
সংবাদকর্মীরা যখন সত্য, সুন্দর এবং সাংবিধানিক আইন বাস্তবায়নে কাজ করেন, তখন তারা জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পথ চলেন। প্রশাসন যন্ত্রের কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পায়, অথচ গণমাধ্যম কর্মীরা যেন দেশের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়া এক অবহেলিত সত্তা—যারা গাধার মতো শ্রম দেবে আর চাবুকের আঘাত সয়ে যাবে। সাংবাদিক নির্যাতনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অনেকটাই নাজুক অবস্থানে রয়েছে। অধিকাংশ সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন, জখম, অপমান বা অপদস্থের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা, প্রশাসন যন্ত্রের কর্তা ব্যক্তি অথবা বিত্তশালীরাই জড়িত থাকেন। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ বিচারহীনতার এক চোরাবালিতে আটকা পড়ে আছে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও কর্তৃপক্ষের নীরবতা
একজন সাংবাদিক কেন আক্রান্ত হলেন, এই নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, ততটা আলোচনা বিচারের দাবিতে হয় না। রাষ্ট্রের একজন পুলিশ কনস্টেবল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু একজন সংবাদকর্মী কার কাছে বিচার চাইবেন? কোথায় যাবেন? ব্যক্তি নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে রয়েছে চরম বেতন বৈষম্য। সংবাদকর্মীরা নিজেদের খেয়ে, বনের মহিষ তাড়াতে গিয়ে, বাঘের হামলায় প্রায় প্রতিদিনই আহত হচ্ছেন। কেন এমন হচ্ছে? কারণ, যাদের সত্য প্রকাশে গাত্রদাহ হয়, তারাই হামলা করে সত্য প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। জনগণের টাকায় যাদের বেতন-ভাতা হয়, তারা 'গোলাম' সেজে সাহেব, শাহজাদা, পীরজাদা বা নবাবজাদার মতো আচরণ করলেও, গণমাধ্যম কর্মীরা বিবেকের আহ্বান, মানবিক মূল্যবোধ, সমাজ সচেতনতা এবং সর্বোপরি সত্যের প্রকাশ ঘটাতে দিনরাত ছুটে চলেন।
সংবিধান এবং রাষ্ট্র গণমাধ্যম কর্মীদের যথেষ্ট মর্যাদা দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে অন্যের অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা নিজেরাই অধিকারহীন হয়ে পড়ছেন। শুধু সম্মান আর মর্যাদাতেই কি মানবজীবন চলতে পারে? সরকার যদি প্রকৃত গণমাধ্যম কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে, তবে রাষ্ট্রযন্ত্রের চাকা আরও বেশি সবল ও শক্তিশালী হবে এবং ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat