- প্রকাশিত : ২০২৫-১১-১২
- ১৯০ বার পঠিত
ফেনী প্রতিনিধিঃ
ফেনীতে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না। জেলায় চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৬৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দাগনভূঞা উপজেলাতেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি ৩১৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় সদ্য শনাক্ত ১০ রোগীর মধ্যে দাগনভূঞা উপজেলায় ০২ জন ও ফেনী সদরে ০৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফেনী সদরে ভর্তি রোগী ১৫, সোনাগাজীতে ১ এবং দাগনভূইয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এককভাবে ভর্তি আছে ১৩ জন রোগী। এছাড়া প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত এখনো ৩ হাজার ৫৫২ টি ডেঙ্গু কিট জেলায় মজুদ আছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলাভিত্তিক ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা হচ্ছে- দাগনভূঞা: ৩১৪ জন, ফেনী সদর: ২৩৭ জন, ছাগলনাইয়া: ৪০ জন, সোনাগাজী: ২৫ জন, পরশুরাম: ১৯ জন, ফুলগাজী: ২ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হওয়া এবং পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব ও খোলা পানির পাত্রে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু বাহক এডিস মশা দ্রুত বাড়ছে। গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ার পরিবর্তনও রোগ বিস্তারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন রয়েছে। জনসচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলেও তারা সতর্ক করেন।
ফেনী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে উৎসস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির ভিতর-বাইরে তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে। আমরা চিকিৎসা ও মনিটরিং জোরদার করেছি, তবে জনসচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি বাড়ির সদস্যকে সপ্তাহে অন্তত একদিন ‘১০ মিনিটের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম’ পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি। সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মত শুধু ফগিং নয়, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এ জাতীয় আরো খবর..