×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-১৬
  • ৩৬৯ বার পঠিত
সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার:

বিপথে কিশোর মন।সমাজ,রাজনীতি ও প্রশাসনের প্রশ্রয় কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পেয়ে পেয়ে দেশের প্রায় সর্বত্র কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে।এদের অপরাধে আমাদের সমাজ অতিষ্ঠ ।২১ অক্টোবর ২০২৫, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীর আলিপুর স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র তানভীর সহপাঠীদের হামলায় নিহত হয়। এ ঘটনায় তিনজন ছাত্র গ্রেফতার হয়েছে।এর আগে ২৭ জুন ২০২২, সাভারের আশুলিয়াতে হাজী ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজের উৎপল কুমার সরকার যিনি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন সম্মানিত শিক্ষক।শারীরিক শিক্ষককে তারই দশম শ্রেণির ছাত্র  পিটিয়ে হত্যা করে। এভাবে  শিক্ষার্থী, বিপথের শিশু, বখাটেদের কিছু লোকের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার করে আজ তাদের কিশোর গ্যাং হিসেবে তৈরি করেছে।কিশোর অপরাধ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ, রাষ্ট্র, ব্যক্তি ও পরিবার কেউ আজ আর শান্তিতে নেই ।

মানুষ জন্মগতভাবে নির্দোষ, কিন্তু পরিবেশ তাকে গড়ে তোলে। শিশুর অন্তরে যেমন সম্ভাবনার আলো জ্বলে, তেমনি অবহেলা, অন্যায় ও বিকৃত মূল্যবোধের আঁধার সেই আলোকে নিভিয়ে দিতে পারে। আজ আমাদের সমাজে যে কিশোর অপরাধ ক্রমেই বাড়ছে—তা কেবল কোনো এক কিশোরের বিচ্যুতি নয়, বরং এটি এক বৃহত্তর সামাজিক, শিক্ষাগত ও নৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। প্রশ্ন জাগে—এই অপরাধী কিশোর কে তৈরি করল? উত্তর খুঁজলে দেখা যায়—দায় চারদিকে ছড়িয়ে আছে: শিক্ষা, পরিবার, সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে।
শিক্ষার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক দায় এক্ষেত্রে আছে ,  জ্ঞানের আলো নিভে গেলে অন্ধকার বাড়ে।শিক্ষা কেবল পঠন-পাঠনের বিষয় নয়; এটি মানুষ গঠনের প্রক্রিয়া। কিন্তু আজ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে কেবল নম্বর ও সার্টিফিকেটনির্ভর। নৈতিকতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা—এসব গুণ শিক্ষার কেন্দ্রে নয়, প্রান্তে চলে গেছে। বিদ্যালয় যদি কেবল পরীক্ষার কারখানা হয়ে যায়, তবে সেখানে চরিত্রের কারিগর তৈরি হয় না। তখন জ্ঞানের আলোয় নয়, অন্ধকারের ছায়ায় বেড়ে ওঠে কিশোর মন। যে শিক্ষা ভালোবাসতে শেখায় না, সে শিক্ষা ঘৃণার জন্ম দেয়। ফলে কিশোর তার পথ হারায়, আর সেই পথেই জন্ম নেয় অপরাধ।
পরিবারের দায় : প্রথম বিদ্যালয়ের অবক্ষয়
পরিবারই শিশুর প্রথম বিদ্যালয়, আর পিতা-মাতা তার প্রথম শিক্ষক। কিন্তু আজ সেই বিদ্যালয়ে স্নেহের ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। বাবা-মা ব্যস্ত জীবিকার চাপে, সন্তান ব্যস্ত প্রযুক্তির জগতে।ফলে ভালোবাসা ও মূল্যবোধের বন্ধন শিথিল হয়ে পড়ছে। কিশোর যখন মনের কথা বলার কাউকে খুঁজে পায় না, তখন সে আশ্রয় খোঁজে বন্ধুবলয়ে, যেখানে ভুল দিকনির্দেশই তাকে টানে বিপথে। পরিবারের অবহেলা, মারধর, তুলনা, কিংবা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ—সবই কিশোর মনকে বিদ্রোহী ও বিচ্যুত করে তোলে।
সমাজ যেমন আদর্শ দেয়, তেমনি বিকৃতি ছড়ায়। আমাদের সামাজিক পরিবেশে এখন নৈতিকতার চেয়ে প্রতিযোগিতা, আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার প্রদর্শন বেশি। সিনেমা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনীতি—সব জায়গায় সহিংসতা ও অশালীনতা যখন সাধারণ হয়ে যায়, তখন কিশোররাও তা স্বাভাবিক ভেবে নেয়। সমাজের রোল মডেল যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তবে কিশোরও বিশ্বাস হারায় ন্যায়ে ও সততায়। ফলে অপরাধ তার কাছে এক প্রকার ‘ক্ষমতার প্রকাশ’ হয়ে দাঁড়ায়।যারা সমাজের পরিচালনা করছে বা সমাজের অধিককর্তা তাদেরকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভূমিকা রাখতে হবে ।
রাষ্ট্রের কাজ কেবল আইন প্রণয়ন নয়, সেই আইনের পেছনে মানবিক বোধ জাগিয়ে রাখা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক কিশোর অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া কাজ করে। কিছু কিশোরকে ব্যবহার করা হয় দলীয় স্বার্থে, যারা অল্প বয়সেই ‘গ্যাং কালচারে’ জড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনিক উদাসীনতা, বিচারহীনতা, পুনর্বাসনের অভাব—সবই অপরাধচক্রকে আরও জটিল করে তোলে। রাষ্ট্র যদি শিশুর স্বপ্ন রক্ষার কাঠামো গড়ে না তোলে, তবে সে রাষ্ট্রই ভবিষ্যতের অপরাধী তৈরি করে।
কিশোর অপরাধ থেকে সমাজকে, জাতিকে, রাষ্ট্রকে নিরাপদ করতে হলে প্রথমত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর জন্য কার্যক্রম গুরুত্ব দিয়ে শুরু করতে হবে।শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে, ক্লাসরুমে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে যারা অনুপস্থিত থাকে তাদের ভেতর থেকেই কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পায়। শিক্ষাকে বা পাঠদান প্রক্রিয়াকে আনন্দদায়ক করতে হবে। শিক্ষায় আইসিটির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিং দিতে হবে। অভিভাবক এবং শিক্ষকদের যে কমিটি আছে প্যারেন্টস-টিচার্স কমিটি সেটা সক্রিয় করতে হবে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করতে হবে। শরীরচর্চা বা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় আয়োজন করতে হবে।
 
অপরাধী কিশোরকে শাস্তি নয়, প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশ ও পুনর্বাসনের। শিক্ষা হতে হবে হৃদয়ের, পরিবার হতে হবে ভালোবাসার, সমাজ হতে হবে আদর্শের, আর রাষ্ট্র হতে হবে ন্যায়ের অভিভাবক। কিশোরদের দিকে তাকাতে হবে করুণার নয়, দায়িত্বের চোখে। কারণ আজকের কিশোরই আগামী দিনের নাগরিক—তার বিকৃতি মানে জাতির পতন, আর তার আলোকিত বিকাশ মানে ভবিষ্যতের আশা।
একজন কিশোর যদি অপরাধে জড়ায়, তবে বুঝে নিতে হবে—তার অপরাধের আগে আমাদের দায় জন্ম নিয়েছে।
কিশোরদের অপরাধ মুক্তমন প্রস্তুত করে, সমাজে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিশোরদের নৈতিক শিক্ষায়,মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat