×
সদ্য প্রাপ্ত:
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ এলাকা থেকে অজ্ঞাত ২ মরদেহ উদ্ধার এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, জিপিএ-৫ বাড়ল ৩ হাজার ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টানা পাঁচ দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা, সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী নেবে ওমান বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস চালানো যাবে না : হাইকোর্ট ফতুল্লায় মাদকের আস্তানায় অভিযানে আগুন—পুলিশের কড়া অভিযানে পুড়ল অপরাধের ঘাঁটি! রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভয়াবহ আগুন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-২০
  • ৫৯০ বার পঠিত
মোঃ কবির হোসেন, ভোলা : 

শীতের আগমনের সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের আনন্দঘন একটি অধ্যায়ের নাম ছিল খেজুর রস। কুয়াশা ভেজা ভোরে হাঁড়িতে টপটপ করে পড়া রসের শব্দ, বাতাসে ভেসে বেড়ানো মিষ্টি গন্ধ—সব মিলিয়ে গ্রামবাংলা ছিল এক অপূর্ব মোহে মোড়ানো। কিন্তু আজ সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। শহুরে আধুনিকতা, অবহেলা ও নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলার কারণে খেজুর গাছ যেমন বিলীন হচ্ছে, তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার শীতের সেই প্রাকৃতিক মাধুর্য।

এক সময় হেমন্ত এলেই শুরু হতো গাছিদের ব্যস্ততা। মাঠে, পুকুরপাড়ে, রাস্তার ধারে—যেদিকেই চোখ যেত সারি সারি খেজুর গাছে রস সংগ্রহের আয়োজন। কোমরে দড়ি বেঁধে ধারালো দা হাতে গাছি চড়া, খাঁজ কাটা, হাঁড়ি বাঁধা—সবই ছিল দেখার মতো দৃশ্য। এখন আর আগের মতো সেই চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না।

সকালে রস সংগ্রহের সময় গাছতলায় শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত মানুষের ভিড় জমে যেত। সেই রসের গন্ধে গ্রামজুড়ে যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ত। আজ তা শুধুই স্মৃতির পাতায়। বহু পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করত খেজুর রস বিক্রি করে, কিন্তু গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।

অভিজ্ঞ মহল ও স্থানীয় গাছিদের মতে, খেজুর গাছ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো—

ইট পোড়ানোর ভাটায় খেজুর গাছ ব্যাপকভাবে ব্যবহার,

কম খরচে ঘরবাড়ি নির্মাণে গাছ কেটে নেওয়া,

বিদ্যুৎ লাইনের নিচে গাছ কাটার নামে গোড়া পর্যন্ত ছাঁটাই,

প্রাকৃতিক দুর্যোগে গাছের ক্ষতি।

এসব কারণে খেজুর গাছের অস্তিত্বই হুমকির মুখে। ফলে আর দেখা যায় না শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে হাঁড়িতে ভরা রস কাঁধে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ফেরির সেই মনোরম দৃশ্য।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে—কোথাও কোথাও কিছু খেজুর গাছ টিকে থাকলেও বেশিরভাগ জায়গায় আর নেই। স্থানীয়রা জানান, আগের মতো রস পাওয়া যায় না; এখন গাছি খুঁজতে কয়েক গ্রাম ঘুরতে হয়।

টগবী ইউনিয়নের কামাল উদ্দিন বলেন,
“ছোটবেলায় পুরো এলাকার বাতাস খেজুর রসের গন্ধে ভরে থাকত। এখন গাছই নেই, গাছিও নেই।”

কুতুবা ইউনিয়নের সোহেল মিয়া জানান,
“গাছ যেমন কমে গেছে, গাছিও তেমনি। আগের মতো রস পাওয়া যায় না।”

বড়মানিকা ইউনিয়নের গাছি মোঃ হোসেন বলেন,
“প্রতিদিন বিকালে কলসি বাঁধি, সকালে রস সংগ্রহ করি। কিন্তু এখন গাছ এত কম যে কাজও আগের মতো নেই।”

বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মণ্ডল বলেন,
“একসময় রাস্তার দুই ধারে সারিবদ্ধ খেজুর গাছ শুধু রসের উৎসই ছিল না, পরিবেশের জন্যও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ গাছ কেটে ফেলছে, কিন্তু নতুন করে আর রোপণ করছে না।”
তিনি আরও বলেন,
“ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষায় খালি জায়গা ও সড়কের পাশে খেজুরসহ দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো জরুরি।”

গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক খেজুর রস এখন শুধু স্মৃতি হয়ে বিলীন  হয়ে যাচ্ছে। মানুষের অবহেলায় প্রকৃতি হারাচ্ছে তার স্বাদ, আর গ্রামবাংলা হারাচ্ছে মাটির টানে গড়া এক মধুময় সংস্কৃতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat