×
সদ্য প্রাপ্ত:
সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ: ডিএমপি গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, চব্বিশ ছিল রক্ষার: প্রধানমন্ত্রী খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোরে ভূরাজনৈতিক শঙ্কা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খান জাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী একটি মহল চক্রান্ত করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-২০
  • ১৬৯ বার পঠিত

জাহিদ হাসান টিপু , শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি  :


শরীয়তপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামের শিশু বৃষ্টি খাতুন। বয়স মাত্র ১১ বছর। সমবয়সী শিশুদের মতো স্কুল–মাঠ–খেলাধুলা তার জীবনে ছিল না কখনোই। কারণ সংসারের সমস্ত বোঝা তার কাঁধে। মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন, আর বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ দাদা-দাদি—যাদের ভরণপোষণও সামলাতে হয় বৃষ্টিকেই।

ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি তিন বছর ধরে নিজ পড়াশোনা আর পরিবারের খরচ চালাতে শরীয়তপুরের পালং মধ্যবাজারে পৌর সুপার মার্কেটের পাশে চায়ের দোকান চালাচ্ছে। সকালে ক্লাস শেষে দুপুরে দাদিকে দোকান থেকে সরিয়ে নিজেই চা বিক্রি শুরু করে। বিকেল বা রাত পর্যন্ত দোকানেই তার সময় কাটে। এভাবেই চলছিল তার মানবেতর জীবন–সংগ্রাম।

বৃষ্টির এমন কঠিন বাস্তবতার কথা স্থানীয় ভিডিপি সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ড্যান্ট মো. জাহিদুল ইসলাম। পরে তিনি বৃষ্টির পরিবারে যোগাযোগ করেন এবং তার শিক্ষাজীবনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। কথা অনুযায়ী বৃষ্টির মাদ্রাসার বেতন, বার্ষিক পরীক্ষার ফি, ব্যাগ, বোকরা, জুতা ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের খরচ ব্যক্তিগত উদ্যোগে বহন করেন তিনি।

উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত বৃষ্টি খাতুন বলে,
“আমার মা আমাকে ছোট রেখে চলে গেছেন। বাবা ও দাদা-দাদিকে নিয়ে আমার অনেক চিন্তা হয়। সকালে ক্লাস, দুপুরে দোকান—এভাবেই দিন চলে। জাহিদুল ইসলাম স্যার আমার বেতন থেকে শুরু করে পরীক্ষা ফি, ব্যাগ, জুতা সব কেনে দিয়েছেন। এখন আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারব। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি বড় হয়ে শিক্ষক হতে চাই এবং গরিব–এতিম শিশুদের বিনামূল্যে পড়াতে চাই।”

এ বিষয়ে জেলা কমান্ড্যান্ট মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন,
“বৃষ্টির মতো অনেক সম্ভাবনাময় শিশু দারিদ্র্যের চাপে ঝরে যায়। আমাদের ভিডিপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তার পড়াশোনা সম্পর্কে খোঁজ নিই। মহাপরিচালক মহোদয়ের মানবিক দিকনির্দেশনায় গ্রাম পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা এমন উদ্যোগ নিয়ে থাকি। বৃষ্টির শিক্ষার ব্যয় আমি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছি। সমাজের সচেতন মানুষরা একটু এগিয়ে এলে এ ধরনের শিশুরা দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat