মোঃ মোবারক হোসেন,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাগুটিয়া বাজার এলাকায় গত দুই মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের দাবী, অব্যাহত এই বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় বাজার, ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের বসতভিটা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাগুটিয়া বাজারের সভাপতি আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন “এই বাজারের সামনে থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এখানে সরকারি অফিস, স্কুল-মাদ্রাসা ও হাজারো মানুষের বসতবাড়ি। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে এগুলো সব নদীতে চলে যাবে। সরকারের কাছে আকুল আবেদন—এই বালু কাটা বন্ধ করা হোক।”তিনি আরও জানান, যারা বালু উত্তোলন করছে তারা “শক্তিশালী মহলের” লোক হওয়ায় তাদেরকে কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না। তিনি দেশবাসীর সহযোগিতাও চান।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ আব্দুল বারেক বলেন:“প্রায় দুই মাস ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এতবার বলা হয়েছে, মিছিল-মানববন্ধন হয়েছে, কিন্তু কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। এই জমিগুলো শুকনো মৌসুমে বাদাম চাষের জন্য ব্যবহার হয়। এখন যদি বালু কেটে নেয়া হয়, তাহলে মালিকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।”তিনি জানান, এই এলাকার উৎপাদিত ফসল স্থানীয় মানুষের খাদ্য যোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিদ্দিকুর রহমান নামে আরেক বাসিন্দা বলেন,
“এই বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে বড় ধরনের সংঘর্ষ, এমনকি খুনোখুনি পর্যন্ত হতে পারে। ইউএনও, ডিসি, বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বন্ধ ছিল, আবার সকালে দেখি৷ চালু হয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন:“এখন আমরা কার কাছে যাব? আমরা বাঁচতে চাই, আমাদের সহযোগিতা চাই।”প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে
“স্থানীয়রা আরেক বলছেন, বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি “অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে “এলাকার ভাঙন ঝুঁকি পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ টিম পাঠাতে হবে “ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা দিতে হবে “দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে
এবিষয়ে মুঠোফোন নবাগত মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সাথে কথা হলে তিনি, অবৈধ ভাবে যমুনা নদীতে বালু উত্তোলন করার কোন সুযোগ নেই। দোষীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..