মোঃ অলি উদ্দিন মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি
নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশের কৃষিজমি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। আজ সকালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ অ্যাগ্রোইকোলজি প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
মূল আলোচনার বিষয়বস্তু
কৃষিজমি হ্রাস ও উর্বরতা সংকট
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, কৃষিজমি দ্রুত হ্রাসের পাশাপাশি রাসায়নিকভিত্তিক চাষাবাদের কারণে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে নতুন রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আবির্ভাব কৃষিখাতকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ও হার্বিসাইড ব্যবহারের ফলে কৃষিজমির পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতও গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
মৎস্য সম্পদের চিত্র পরিবর্তন
মৎস্য উপদেষ্টা মুক্ত জলাশয়ের সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, একসময় দেশের মোট মাছের ৬০ শতাংশ আসত মুক্ত জলাশয় থেকে, কিন্তু বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাত্রাতিরিক্ত দূষণ, ভরাট এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্রগুলো দিন দিন নষ্ট হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। অ্যাকুয়াকালচারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়লেও তা কখনোই দেশের একমাত্র উৎস হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তাদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দাবি
উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) -এর পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বক্তারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
ক্ষতির পরিমাণ: বক্তারা জানান, কৃষি এখনো দেশের মোট জিডিপির ১১ শতাংশের উৎস হলেও দেশের ৮.৮২ মিলিয়ন হেক্টর আবাদি জমি দ্রুত কমছে। প্রতি বছর নগরায়ন, শিল্পায়ন ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে।
হুমকি: ভূমি দখল, বেসরকারীকরণ, রাসায়নিকের ক্ষতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে কৃষিজমির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সমাধান: কৃষিজমি সুরক্ষায় সরকারের প্রস্তাবিত আইনের দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর বক্তারা জোর দেন।
কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ বদরুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কৃষি, ভূমি, পরিবেশ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন।
এ জাতীয় আরো খবর..