×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-৩০
  • ১৬৯ বার পঠিত

দুর্ঘটনার ঝুঁকি, যানজট, যোগাযোগ বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ

পরিতোষ বড়ুয়া রানা, চট্টগ্রাম 
০১৫৭৫৩৭৩৪০০

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া এবং চকরিয়া এলাকায় স্থানীয় মানুষ দিনব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত একাধিক স্থানে অবরোধ চলায় দেশের অন্যতম ব্যস্ততম জাতীয় মহাসড়ক-১ এ সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। থেমে যায় সব ধরনের যান চলাচল, ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স।

তিন স্থানে একযোগে অবরোধ—যান চলাচল বন্ধ, দীর্ঘ লেনে আটকে পড়ে শত শত গাড়ি

অবরোধ শুরু হয় লোহাগাড়ার আমিরাবাদ, সাতকানিয়ার কেরানিহাট এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সেতু এলাকায়। "চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন" ব্যানারে স্থানীয় লোকজন মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
অবরোধকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দেন— “ছয় লেন চাই, বাঁচতে চাই”, “মৃত্যুফাঁদ মহাসড়ক আর নয়”, “ঢাকা–কক্সবাজার মহাসড়ক জাতীয় সম্পদ, উন্নয়ন চাই”।

এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। ট্রাক–কাভার্ডভ্যান–প্রাইভেটকার–বাসের দীর্ঘ সারি আটকে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

মহাসড়ক ‘মৃত্যুফাঁদ’—স্থানীয়দের অভিযোগ

অবরোধকারীরা জানান, জাতীয় মহাসড়ক-১ দেশের পর্যটনশিল্প, অর্থনীতি এবং বানিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটে দুর্ঘটনা।
তাদের অভিযোগ:

লবণবাহী ট্রাক চলাচলে রাস্তায় পিচ্ছিলভাব থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি

লোহাগাড়া–চকরিয়া অংশে তীব্র বাঁক ও ঢালু অংশে নিয়মিত দুর্ঘটনা

সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার ওপর কাদা ও লবণের পিচ্ছিল স্তর তৈরি হয়

অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলে দুই লেন সড়ক সার্বক্ষণিক চাপের মুখে


বিগত ছয় মাসে এ সড়কে প্রায় ৮০টির বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে—যেখানে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন, আহত হয়েছেন আরও শতাধিক।

স্মারকলিপি–মানববন্ধনের পরও ‘কোনো অগ্রগতি নেই’

সড়ক উন্নয়নের দাবিতে স্থানীয়রা গত কয়েক মাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

৬ এপ্রিল: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন

প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান

১১ এপ্রিল: সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর কাছে স্মারকলিপি

লাখো মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান


এসব কার্যক্রমের পরও কোনো বাস্তব অগ্রগতি বা সময়সূচি ঘোষণা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

“এ সড়কটি দেশের অর্থনীতির সোনার হরিণ”— আন্দোলনের সমন্বয়ক

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক মিনহাজুল ইসলাম বলেন—
“বাংলাদেশের ৬৭টি জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক–১ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার–বান্দরবান এই করিডোরটি অর্থনীতি, পর্যটন ও শিল্পকারখানার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছর পরও এই সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা হয়নি—এটা অত্যন্ত হতাশাজনক।”

তিনি আরও বলেন,
“সরকারি যাচাই–বাছাই, বিভিন্ন গবেষণা, প্রকল্প প্রস্তাব—সবই হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে প্রকল্পটি ঝুলে আছে। আমরা চাই দ্রুত সিদ্ধান্ত হোক।”

পুলিশ বলছে—পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ চলছে

দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন—
“অবরোধের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ মাঠে যায়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে।”

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রায় দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল আংশিক স্বাভাবিক হয়।

মহাসড়ক উন্নয়নের ইতিহাস—‘প্রকল্প দাঁড়ায়, কিন্তু এগোয় না’

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সড়ক ছয় লেন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) শেষ হয়েছে ২০১৮ সালে।
পরবর্তীতে:

ডিপিপি তৈরি হয় ২০২০ সালে

বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২১–২২ অর্থবছরে

কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন স্থগিত থাকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে


দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত পর্যটন রুট হওয়া সত্ত্বেও প্রকল্পটি আটকে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ

অবরোধে আটকে পড়া যাত্রীদের অনেকেই বলেন,
“এই রাস্তায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। আমাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বড় হবে।”

ব্যবসায়ীরা বলেন,লবণ, মাছ, কৃষিপণ্য, পর্যটনসম্ভার—সবই এই রুটে পরিবহন হয়। প্রতিদিনই বিলম্বে ক্ষতি পোহাতে হয়।

অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও দাবি বহাল—স্থায়ী সমাধান না পেলে কর্মসূচি আরও কঠোর

বিকেলে স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন “চলমান দাবি পূরণ না হলে সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রাম–কক্সবাজারের যোগাযোগ অচল করে দেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat