মোঃ আলি উদ্দিন মিলন বিশেষ প্রতিনিধি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ, অপ্রকাশিত ও অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মৎস্য শিকারের মতো জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, একক দেশের পক্ষে এই সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।
আজ সকালে চট্টগ্রামের দ্য পেনিনসুলা হোটেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস আয়োজিত চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো: "মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ব্লু ইনোভেশনস: সেইফগার্ডিং ওশান হারমনি"।
টেকসই সামুদ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসন
উপদেষ্টা বাংলাদেশের টেকসই সামুদ্রিক উন্নয়ন এবং ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নে সমুদ্রের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি কার্যকর সুশাসন, বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীল আহরণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্লু ইকোনমিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করায় বিজ্ঞান-নীতি-কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সমন্বয়ে একটি টেকসই সামুদ্রিক ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের ইকোসিস্টেমে বিপদের সংকেত
ফরিদা আখতার বঙ্গোপসাগরের বাস্তুতন্ত্রের উপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ড. ফ্রিটজফ নানসেন কর্মসূচির ২০২৫ সালের সামুদ্রিক জরিপ অনুযায়ী:
মাছের মজুত হ্রাস: গত সাত বছরে ছোট পেলাজিক মাছের মজুত ৭৮.৬% হ্রাস পেয়ে মাত্র ৩৩,৮১১ টনে নেমে এসেছে (যা আগে ১,৫৮,০০০ টন ছিল)।
জেলিফিশের আধিক্য: বড় শিকারী মাছ কমে যাওয়ায় জেলিফিশের আধিক্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য একটি বিপজ্জনক সংকেত।
উপদেষ্টা বলেন, এই ফলাফলগুলি বঙ্গোপসাগরের ইকোসিস্টেমে দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
ইলিশ সুরক্ষা: সময়ের দাবি
তিনি ইলিশকে জাতীয় ও বৈশ্বিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষে থাকলেও এই সম্পদ এখন হুমকির মুখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাগরের প্রতিটি স্তরে ইলিশ রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
নীতিনির্ধারণে গবেষকদের তথ্য প্রাধান্য
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে অত্যন্ত দক্ষ গবেষক ও বিজ্ঞানী আছেন এবং নীতিনির্ধারণে তাঁদের গবেষণালব্ধ তথ্যকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি ইকোসিস্টেম সুরক্ষা, সমুদ্র ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অন্যান্য দিক
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার।
প্লেনারি সেশনে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের বিজনেস স্কুলের প্রফেসর ড. পিয়ের ফাইলার (Dr. Pierre Failler) "গ্লোবাল ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়ন : চ্যালেঞ্জ, অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত অন্তর্দৃষ্টি" শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ মেরিন সায়েন্সের পরিচালক ড. শেখ আফতাব উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, গবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এ জাতীয় আরো খবর..