মো:নিশাদুল ইসলাম নিশাদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থান, ডিসি বাংলা রোডের দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতিটি সম্প্রতি পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে। শুধু মোছা নয়, গ্রাফিতির কোনো চিহ্ন যাতে আর অবশিষ্ট না থাকে, সেজন্য দেয়ালের প্লাস্টারও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ' ও প্রতিবাদ
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদে সরব হয়েছে স্থানীয় সংগঠন 'ঐক্যবদ্ধ সরদার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা'। সংগঠনটির মুখপাত্র শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, খবরটি শোনা মাত্রই তিনি অন্য সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন এবং এই কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও একই কায়দায় গ্রাফিতিটি মুছে ফেলা হয়েছিল এবং সেই সময়কার জেলা প্রশাসকও দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটা এবং বারবার কর্তৃপক্ষের দুঃখ প্রকাশ করার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন: "যদি আগে থেকেই বিষয়টির সংবেদনশীলতা জানা থাকে, তবে কি নতুন কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এমনটি করা হয়েছে?"
ঘটনাটিকে 'দুঃখজনক' উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরাফাত হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "এটা সত্যিই দুঃখজনক। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নয়তো এর পরের বারও একই কাজ করে কর্তৃপক্ষ কেবল দুঃখ প্রকাশ করেই দায় সারবে।"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "যারা এই কাজটি বার বার করছে, তাদেরকে প্রকৃত অর্থেই জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ। এর পিছনে কোনো গভীর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণ আছে কিনা, তা জনসমক্ষে আসা উচিত।"
ঐতিহ্যের প্রতীক গ্রাফিতি বারবার মুছে ফেলার ঘটনা জেলার সংস্কৃতিপ্রেমী ও সচেতন মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের বারবার দুঃখ প্রকাশ সত্ত্বেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, এই বিষয়ে কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনগণের দাবি অনুযায়ী, এই কাজটির পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করা জরুরি।
এ জাতীয় আরো খবর..