×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১২-০৭
  • ২২৪ বার পঠিত

মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সাতক্ষীরা

 আজ ৭ ডিসেম্বর, গৌরবোজ্জ্বল সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের কবল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর সাতক্ষীরা মুক্ত হওয়ার খবরে শহরের রাস্তাঘাট, গ্রাম-বাজার ও সীমান্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের বন্যা। থ্রি–নট–থ্রি রাইফেল ও এসএলআর থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়োল্লাসে শহরে প্রবেশ করেন এবং স্বাধীন বাংলার লাল–সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন। সন্তান হারানোর বেদনাকে ভুলে মানুষ দল বেঁধে রাস্তায় নেমে আসে বিজয়ের উচ্ছ্বাসে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাতক্ষীরার মাটিতে অন্তত ৫০টির বেশি সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়। বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। ২ মার্চ পাকিস্তানবিরোধী মিছিলে রাজাকারদের গুলিতে শহীদ হন আব্দুর রাজ্জাক। এরপর সাতক্ষীরার তরুণেরা সংগঠিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ব্যাংক থেকে অর্থ, অলংকার ও অস্ত্র সংগ্রহ করে তারা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় অষ্টম ও নবম সেক্টরের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২৭ মে ভোমরা সীমান্তে প্রথম সম্মুখযুদ্ধের সূচনা হয়।

টাউন শ্রীপুর, বৈকারী, খানজিয়া ও অন্যান্য এলাকায় সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন ৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধা। ২৯ নভেম্বর পাক বাহিনীকে দুর্বল করতে কেন্দ্রীয় পাওয়ার হাউসে টাইম বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে আতঙ্কিত হানাদাররা পালিয়ে যেতে শুরু করে। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে বাঁকাল, কদমতলা ও বেনেরপোতা ব্রিজ ধ্বংস করা হয়। এর পরদিন ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয় এবং শহরের সর্বত্র শুরু হয় মুক্তির উল্লাস।

সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ইউনিট আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. শহিদুল ইসলাম বলেন, “সাতক্ষীরায় কার্যক্রম পরিচালিত হতো ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে। আমি ছিলাম ৯ নম্বর সেক্টরে। দুই সেক্টরের যৌথ লড়াইয়েই সাতক্ষীরা মুক্ত হয়েছিল। আমাদের কমান্ডার ছিলেন মেজর জলিলসহ অনেক বীর সেনানী। মুক্ত দিবস আমাদের আনন্দ দেয়, তবে সহযোদ্ধাদের হারানোর বেদনা আজও তাড়া করে।”

তিনি আরও জানান, স্বাধীনতার পর সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ২,৩০০ থেকে ২,৪০০ জন। বর্তমানে বেঁচে আছেন মাত্র ৮০০ থেকে ৮৫০ জন। শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে স্মৃতিচিহ্ন ও উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ মনে করেন, সাতক্ষীরায় একটি বৃহৎ শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। তাদের বিশ্বাস, এটি নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস, গৌরব ও দেশপ্রেম ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া সন্ধ্যায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনারে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হবে—শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat