স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে গত রবিবার (০৭ ডিসেম্বর) নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান ২০২৩-এ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।
৩ বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এদিন ২ জন নারীসহ মোট ৩১ জন মিডশিপম্যান সাব-লেফটেন্যান্ট পদে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন লাভ করেন। মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে নবীন কর্মকর্তাদের জীবনে সূচিত হয় নতুন দায়িত্বের অধ্যায়।
কুচকাওয়াজ শেষে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে গৌরবময় পদক তুলে দেন।
‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন মিডশিপম্যান সৈয়দ তাহসিন আহমেদ (এল), বিএন—সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ চৌকশ হিসেবে।
‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন মিডশিপম্যান এস এম আবরার ওবাইদ (ই), বিএন—প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ।
পরে নবীন কর্মকর্তাগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান শপথ গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ শেষে নৌবাহিনী প্রধান, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং অভিভাবকগণ নবীন কর্মকর্তাদের কাঁধে পদচিহ্নিত অ্যাপুলেট পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে নেভাল এভিয়েশনের মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টারের চিত্তাকর্ষক ফ্লাইপাস্ট নজর কাড়ে উপস্থিত সবার।
নিজ বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌকমান্ডোদের সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, সিম্যুলেশন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও প্রযুক্তির সংযোজন এবং দেশীয় সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি পূর্ণাঙ্গ ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
লার্জ পেট্রোল ক্রাফট, এলসিটি ও ডাইভিং বোট নির্মাণসহ দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়নে নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে—যোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহ থেকে হেলিকপ্টার, আনম্যান্ড এয়ারক্রাফট এবং বিভিন্ন সক্ষমতার জাহাজ সংযোজনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা, সমুদ্রপথে অপরাধ দমন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগকালীন উদ্ধার তৎপরতা এবং শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নৌবাহিনী দেশের জন্য গৌরবময় ভূমিকা পালন করছে—উল্লেখ করেন নৌপ্রধান।
তিনি নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “সততা, দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার মনোভাব নিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনা ও বিমান বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আপনাদের এগিয়ে যেতে হবে।” পেশা হিসেবে দেশসেবা বেছে নেওয়ায় নবীন কর্মকর্তা ও তাদের অভিভাবকদের তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ জাতীয় আরো খবর..