রংপুরের প্রতিনিধি \
রংপুরের সদর উপজেলায় কাবিখা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এস্কভেটর মেশিন ভেকু দিয়ে। তদারকি কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি না থাকায় প্রকল্পের সভাপতিরা কাবিখার চাল ও গম সরকারি গুদাম থেকে উত্তোলনের পর তা বিক্রি করে ভেকু দিয়ে রাস্তার মাটি কাটার কাজ বাস্তবায়ন করছেন। এতে প্রকল্পের সভাপতি ও কাজ তদারকি কর্মকর্তারা লাভবান হলেও কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।
এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন ৪.৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা মাহবুবা খাতুন।
বিধি অনুযায়ী, এ সব প্রকল্প নেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে দু’টি, প্রথমটি হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দ্বিতীয়ত্ব গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন করা। কিন্তু এই বিধি মানেননি ওই দুই প্রকল্পের সভাপতি।সরেজমিনে দেখা যায়, ‘ফাজিলখা মোশারফের তেপতি হতে পশ্চিম দিকে মানিকের জমি পর্যন্ত’ ৮০০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটা হয়েছে ভেকু দিয়ে। ভেকু দিয়ে ৩০ ঘন্টা কাজ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রতি ঘন্টা ভেকু নিয়েছে ১২০০ টাকা। সেই অনুযায়ী ৩০ ঘন্টা ভেকু মালিক পেয়েছেন ৩৬ হাজার টাকা। অথচ ওই প্রকল্পে বরাদ্দ সাড়ে ১১ মেট্রিকটন গম। যার বাজার মুল্য ৪ লাখ টাকার ওপরে।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুমিনুর রহমান বলেন, ‘ভেকু দিয়ে প্রকল্পের কাজ করার বিষয়টি আমি জানি না। আমি তাঁর (মাহবুবা) প্রশংসা করার প্রশ্নই উঠে না।’ তবে তিনি বলেন, ‘ওই দুই প্রকল্পের অর্ধেক করে গম ও চাল ছাড় দিয়েছি। কাজ দেখে বাকী চাল ও গম ছাড় দেওয়া হবে। বিধি অনুযায়ী কাজ না হলে প্রকল্পের সভাপতিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ভেকু দিয়ে কাজ করার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বায়ান্নর আলোকে বলেন, ‘কাবিখা প্রকল্প হচ্ছে, কাজের বিনিময় খাদ্য। এই প্রকল্পের চাল-গম বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। শ্রমিকরা কাজের বিনিময়ে চাল গম পাবেন। যদি ওই ইউনিয়নে কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’