- প্রকাশিত : ২০২৫-১২-১৩
- ৮৮ বার পঠিত
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধসালাউদ্দিন রানা
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১ নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড নভাগী গ্রামে রাতের আঁধারে অবৈধ বালু পাথর ও খাস জমি থেকে কেটে আনা অবৈধ মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের দাপটে গ্রামীণ সড়কগুলো ধ্বংস হওয়ার পথে। উপজেলা প্রশাসন শাহ আরেফিন সড়কে ভোলাগঞ্জ মোড়ে বেষ্টনী বসালেও পাথরখেকো সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কার্যকলাপ কমেনি; বরং রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে তারা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত সোনাই নদীর বালু ও শাহ আরেফিন টিলা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর বোঝাই ট্রাক্টর ও ট্রলি গ্রামের ভেতর দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। সরু এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ৭–৮ টি গ্রামের মানুষ চলাফেরা করে। অথচ সেখানে মোটরসাইকেল বা সিএনজিও নিরাপদে চলতে পারছে না। রাস্তাটির ধারণক্ষমতা তিন থেকে সাড়ে চার টন । সে জায়গায় এই রাস্তাতে ১৫–২০ টন ওজনের ভারী যান চলাচলে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে, কেঁপে উঠে ঘরের মেঝে পর্যন্ত। ভয়ে হয়ে থাকেন বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা ।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায় গ্রামের কিছু প্রভাবশালীরা প্রভাব খাটিয়ে খাস জমি থেকে মাটি কেটে দিনের বেলায় ট্রাক্টর করে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি, ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে রাস্তাঘাট। দিনের বেলায় এই ভাঙ্গা রাস্তায় ট্রাক্টর চলাফেরার কারণে ধুলার উপদ্রব সহ্য করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। স্থানীয় এক্স প্রভাবশালী জানান আমরা গ্রামের রাস্তাই মাটি ফেলতেছি আমাদের ফান্ডের টাকা দিয়ে। রাস্তা থেকে বাড়ি ভেঙে গেছে তাই মাটি ফেলতেছি।
অন্য আরেকটি সূত্রে জানা যায় এই রাস্তা মেরামতের নামে ঐসব বালু পাথর ও মাটি বহনকারী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করা হয় এবং সুযোগ দেওয়া হয় এসব অবৈধ তার।
স্থানীয় এক মুরুব্বি দোকানদার জানান, এই গ্রামের রাস্তাটি নিয়ে দুই পক্ষের জমজমাট সিন্ডিকেট ব্যবসা। একপক্ষ সুবিধা নিয়ে দিনের বেলায় মাটির গাড়ি চলার অনুমোতি দেয়, আরেক পক্ষ রাতের আঁধারে প্রশাসন টেকেল দেওয়ার নামে আদায় করে অর্থ।
এই রাস্তাটি মাটির সাইট সহ ৮ ফুট প্রস্থ অথচ দুই ধার ভেঙে যাওয়াই এখন ছয় ফুট অবশিষ্ট আছে। এই রাস্তা দিয়ে দুইটা অটো রিকশা একসাথে ক্রসিং করতে বেশ অসুবিধা হয়, এরমধ্যে এখন দিনে রাতে চলছে ট্রাক্টরের উৎপাত রাস্তা কোনভাবেই বন্ধ করতে পারছি না। প্রশাসনকে জানালে তারা উদাসীনতা প্রকাশ করেন। আসবো আসছি বলে তাদের আর কোন পাত্তা পাওয়া যায় না অবশেষে আমরা এলাকাবাসী এর প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাধা প্রদান করলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না এসব অবৈধ বালু পাথরের গাড়ি গুলো।
৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জামাল উদ্দিন জানান, রাত বারোটার পর থেকেই শুরু হয় অবৈধ বালু ও পাথর বহনকারী ট্রাক্টরের উৎপাত প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি কিন্তু কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না গাড়িগুলো। শাহআরফিনে এলাকার মেইন রাস্তা স্থানীয় প্রশাসন বন্ধ করে দেওয়ার পরই শুরু হয় এই গ্রামে দুর্গতি।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বতুল্লা মিয়ার বাড়ি থেকে নভাগী ব্রিজ পর্যন্ত। একসময় পাকা রাস্তা থাকলেও এখন সেখানে বড় বড় গর্ত, ভাঙা ইট ও ধুলোর দমবন্ধ করা চিত্র—যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা আর রাস্তা নয়, পাথরখেকোদের বানানো মৃত্যুফাঁদ।”
গ্রামের সাবেক মেম্বার মন্তাজ উদ্দিনের অটো রাইস মিল এলাকা থেকে বটেরতল মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা তুলনামূলক ভালো থাকলেও অবৈধ যানবাহনের কারণে দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে, তাদের নিরাপত্তা এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে।
নভাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন শতাধিক শিশু এই রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। রাস্তার এ অবস্থায় তাদের চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার ও অবৈধ যান চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা আখরম আলী বলেন, “অনেকবার অনুরোধ করেছি—কিন্তু কোনো ফল হয়নি। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এ ভয়াবহতা বন্ধ করা অসম্ভব।”
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিন মিয়া বলেন, “রাতে ওই এলাকায় অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল হচ্ছে—এ তথ্য আমরা আগে জানতাম না। এখন জানার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান জানান, অবৈধ লুটপাট বন্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লুটপাট করীরা যদি অন্য রাস্তা ব্যবহার করে থাকে, তাহলে অতি দ্রুতই আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব।
স্থানীয়দের ভাষ্য—নভাগী গ্রামে রাতের এই দাপট যেন প্রতিদিনের মৃত্যু-ঝুঁকি। প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ ছাড়া গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক খুব দ্রুত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এ জাতীয় আরো খবর..