×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১২-১৫
  • ১৭৮ বার পঠিত
বিশেষ প্রতিনিধি 
মোঃ অলি উদ্দিন (মিলন)

​বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ এখন পারস্পরিক অবিশ্বাস, তিক্ততা এবং ভিত্তিহীন কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির বিষবাষ্পে আচ্ছন্ন। এই নেতিবাচক সংস্কৃতি কেবল গণতন্ত্রকেই দুর্বল করছে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে গভীর সংকটে ফেলেছে। তথ্য-প্রমাণ ছাড়া প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা রাজনীতিকে কলুষিত করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি সত্য উদঘাটন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে কাজ না করে, তবে সুশাসন ও সুস্থ রাজনীতির প্রত্যাশা কেবলই দুরাশা থেকে যাবে।
​অস্থিরতার মূল কারণ: কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির সংস্কৃতি
​রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য অসার অভিযোগের পাহাড় গড়ার সংস্কৃতি এখন জেঁকে বসেছে। কেন এই অস্থিরতা?
​ভিত্তিহীন বিষোদ্গার: কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন না করেই প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা এখন রাজনীতির নিয়মিত কৌশল। এটি জনমনে কেবল বিভ্রান্তিই ছড়ায় না, বরং রাজনীতিকদের ওপর থেকে মানুষের অবশিষ্ট আস্থাটুকুও কেড়ে নেয়।
​জনগণের দুর্ভোগ: রাজনৈতিক সংঘাত যখন রাজপথে গড়ায় বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি করে, তার সরাসরি শিকার হয় সাধারণ মানুষ। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং স্বাভাবিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ার দায় রাজনীতিকরা এড়াতে পারেন না।
​চরিত্র হননের নোংরা খেলা: চলমান কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি প্রায়শই রাজনৈতিক সমালোচনা পেরিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্র হননের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এই প্রবণতা মেধাবী ও সৎ মানুষদের রাজনীতিতে আসতে নিরুৎসাহিত করছে।
​গণমাধ্যম: সত্যের প্রহরী যখন শিকলবন্দী
​গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা রাজনৈতিক দলের অনিয়ম ও দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আজ অস্তিত্বের সংকটে।
​ক্ষমতার রক্তচক্ষু: বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল বা প্রশাসনের নানামুখী চাপ, হুমকি, এমনকি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
​নিবর্তনমূলক আইনের ভীতি: সংবিধান মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিলেও, ডিজিটাল স্পেস নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন কঠোর আইন এবং তার অপপ্রয়োগের ভীতি সাংবাদিকদের কলম চেপে ধরছে। গ্রেফতার বা হয়রানির ভয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র 'সেল্ফ সেন্সরশিপ' বা স্ব-নিয়ন্ত্রণ, যার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য আঁধারেই থেকে যাচ্ছে।
​চরম নিরাপত্তাহীনতা: পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলা, মিথ্যা মামলা, এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
​প্রত্যাশা: ডিজিটাল যুগে তথ্যভিত্তিক পরিচ্ছন্ন রাজনীতি
​বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য যাচাই করা এবং সত্যকে দ্রুত জনসম্মুখে আনা আগের চেয়ে সহজ। এই প্রযুক্তিগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা জরুরি।
​তথ্যের শুদ্ধাচার: রাজনীতিবিদদের অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলার সংস্কৃতি চালু করতে হবে। ভিত্তিহীন অভিযোগের পরিবর্তে গঠনমূলক সমালোচনা এবং ডাটা-ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো দলের হাতিয়ার না হয়ে, রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। অপরাধ দমনই হবে তাদের একমাত্র লক্ষ্য, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব নয়।
​গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাংবাদিকদের জন্য একটি ভয়হীন ও স্বাধীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন বা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে সাংবাদিকদের পেশাগত ও আইনি সুরক্ষা প্রদান এখন সময়ের দাবি।
​উপসংহার:
​বাংলাদেশে একটি জনকল্যাণমুখী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির নবজাগরণের জন্য কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির এই বিষাক্ত চক্র ভাঙতেই হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল দেশের রাজনীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat