মোঃ কবির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার,
উপকূলীয় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। ঘন কুয়াশা, নিম্ন তাপমাত্রা এবং মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে বয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নদীতীরবর্তী বেড়িবাঁধ এলাকার মানুষ। বিশেষ করে হাকিমুদ্দিন, হাসান নগর, পক্ষিয়া ও বড়মানিকা ইউনিয়নের অসহায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নদী তীরের মানুষের কষ্ট;
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীসংলগ্ন বেড়িবাঁধ
এলাকায় সারাক্ষণ প্রবল বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি অন্যান্য এলাকার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। ভোর ও গভীর রাতে শিশু, নারী ও বয়স্করা প্রচণ্ড কষ্টে দিন পার করছেন। অনেক পরিবার টিনের ঘর বা খোলা জায়গায় বসবাস করছেন। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে তারা আগুন জ্বালিয়ে এবং পুরোনো কাপড় বা পলিথিন জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
হাকিমুদ্দিন ইউনিয়নের জেলে আবদুল কাদের (৫৫) জানান:
“নদীর পাড়ে বাতাস থামেই না। রাতে এত ঠান্ডা লাগে যে ঘুম আসে না। কম্বল নেই, আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকি।”
নদীতীরবর্তী জেলে পরিবার ও দিনমজুররা শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শীতে কাজে যেতে পারছেন না অনেক শ্রমজীবী, ফলে দৈনন্দিন আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
পক্ষিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীতীরের দিনমজুর রাশেদ মিয়া (৪২) বলেন:
“শীতের কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। নদীর বাতাসে শরীর কাঁপে, বাচ্চাদের নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।”
বড়মানিকা ইউনিয়নের গৃহবধূ সালমা বেগম (৩৮) বলেন:
“ছোট বাচ্চা আছে। শীতের রাতে কান্না থামে না। একটি কম্বল পেলে অনেক উপকার হতো।”
বয়স্ক বাসিন্দা হাজী মোস্তাফিজুর রহমান (৬৮) জানান:
“মেঘনা ও তেঁতুলিয়া দুই নদীর বাতাসে শরীর অবশ হয়ে যায়। দ্রুত সাহায্য দরকার।”
স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
বোরহানউদ্দিনের টগবী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমরা অতিশীঘ্রই মেঘনার তীরবর্তী বেড়িবাঁধ এলাকায় অসহায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করার উদ্যেগ গ্রহণ করেছি।
আরেক ইউপি চেয়ারম্যান কুতুবা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া বলেন আবাসন প্রকল্পে বসবাসরত শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোজ কুমার বর্মন জানান:
“সরকার নদীতীরবর্তী অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত অসহায়দের মধ্যে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হবে।”
সচেতন মহল মনে করেন, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের মানবিক সহায়তার উষ্ণতায় শীতার্ত অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।